নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
চাঁদপুরে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজনে “শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত প্রকল্প” এর আওয়তায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্য সচেতনতামূল প্রশিক্ষণ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১১ ডিসেম্বর বুধববার সকাল ১১টায় প্রশিক্ষণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, ক্যান্সার যেমনি জীবন কেড়ে নিচ্ছে তেমনি অতিমাত্রার শব্দও জীবন কেড়ে নিতে পারে। আপনাদের কাছে মোবাইন কোর্ট যাবে পুলিশ ধরবে তা কিন্তু সমাধান না।
পরিবহন শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে ডিসি বলেন, উচ্চ শব্দে যিনি হর্ন বাজাচ্ছেন তিনিও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। আপনার অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকবেন। উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো অপরাধ তা নিশ্চয় আপনার আজকের শ্রক্ষিণ থেকে জানতে পেরেছেন। শুধু তাইনয় কোন কোন স্থানে হর্ন বাজাতে পারবেন না তাও আপনারা জেনেছেন। তাহলে এখন থেকে আপনাকে যদি শাস্তি দেওয়া হয় তাহলে তখন আপনি বলতে পারবেন না যে আপনি আইনটি সম্পর্কে অবগত নয়। আজকে যারা প্রকিাষণে এসেছেন তারা অন্য চালক ভাইদের জানাবেন অতিশব্দ সকলের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, জ্যামে পরলে আপনারা অধিক হর্ন বাজাচ্ছেন। আপনি কিন্তু দেখতে পাচ্ছে সামনে আধাকিলো জ্যাম রয়েছে তারপরও আপনারা হর্ন বাজান। আপনাদেরকে যে স্টিকার দেওয়া হয়েছে তা আপনারা পথে ফেলে দিবেন না গাড়িতে লাগাবেন বাবোগিতে চোখের সামনে রাখবেন। গবেষনায় বলা হয় গর্ভবিস্তায় শিশু শেষ তিনমাসে বাইরের শব্দ শুনতে পায়। অতিশব্দের কারনে মাতৃগর্ভের শিশু প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিতে পারে। তাই আমাদের কোন ভাবেই হাসপাতালের সামনে অতিশব্দে হর্ন বাজাবেন না।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত সুদীপ্ত রায়, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ নূর আলম দীন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহাদাতনহোরসন শান্ত প্রকল্প উপস্থাপন করেন চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালকে মোঃ মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া। মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেবুরে রহমান ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাবুল মিজি।
বক্তারা বলেন, আমরা সকলেই শব্দ করে থাকি কিন্তু আজকের প্রেশিক্ষণ সভায় কেন শুধু চালক ও হেলপার ভাইদের ডাকা জলো কেন। আমাদের এ সমাজে পরিবহন সেক্টর থেকেই বেশী শব্দ দূষণ করে থাকে। তাই আপনারা বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বৃদ্ধাশ্রম এলাকায় অযথা হর্ন বাজাবেন না। আপনারা মানবিকভাবে নিলে অবশ্যই শব্দদূষণ থেকে আমরা রক্ষা পাব। অতিরিক্ত শব্দ মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এতে করে একজন অসুস্থ শিশুর জন্ম হতে পারে। সরকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিনন সভা সেমিনার, নাটিকা, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পাল করা হচ্ছে।
![]()