নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
চাঁদপুর পৌরসভার একটি ড্রেনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৮ মে) দুপুরে শহরের নতুন বাজার এলাকায় কদমতলা পৌরসভার কমিউনিটি হলের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মা-ছেলেসহ তিন পথচারী আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।
আহতরা হলেন—শহরের গুনরাজদী এলাকার ইমরুল আহমেদের স্ত্রী তন্নী আক্তার (৩৫), ছেলে রোহান (৮) ও একই এলাকার মো. হান্নানের ছেলে মো. রাহিম (৮)। ওই দুই শিশু বেগম মসজিদ দারুল ইমাম মাদরাসার ইকরা বিভাগের ছাত্র।
চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক ও ডিডিএলজি মোঃ গোলাম জাকারিয়া এবং চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মোঃ বাহার মিয়াসহ ফায়ার সার্ভিস এর লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে পরিত্যক্ত কোন বিস্ফোরক থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনাস্থলে ভ্যানচালক মোহাম্মদ আবুল বাশার হাওলাদার সবজি বিক্রি করছিলেন। পাশেই দারুল ইমান মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রোহান (৮) তার মা তন্নী (৩৫), এবং আরও একজন শিক্ষার্থী রাহিম (৮) দাঁড়ানো ছিল।
বিস্ফোরণে তারা সবাই আহত হয়েছে, এরমধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী তাফসীর এবং তার মা তন্নী গুরুতর আহত হয়। তারা বর্তমানে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
শক্তিশালী এই বিস্ফোরণে ত্রীমুখী পৌরসভার ফাইভ ড্রেন এবং স্লাব ড্রেনের উপরের স্লাব বিস্ফোরণে উড়ে যায়। একই সাথে সবজি বিক্রেতার ভ্যান গাড়িটি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
এ বিষয়ে চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মোঃ গোলাম জাকারিয়া বলেন, খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। কী কারনে বা কীভাবে এত বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে তা আমাদের বোধগম্য না। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।
চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মোঃ বাহার মিয়া বলেন, ফায়ার সার্ভিসসহ আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে আহতদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল পাঠাই। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা বিস্ফোরণের কারণ বের করব।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এতে তিন পথচারী আহত হন। এটি একটি ময়লা নিষ্কাশনের ড্রেন। তার পাশেই রয়েছে এসবি খাল। ড্রেনের ময়লাগুলো ওই খালে গিয়ে পড়ে। এই ড্রেনেই বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের স্থানে দুটি আলাদা পাইপলাইনও রয়েছে। তবে এগুলো কীসের পাইপ তা এখন বলা যাচ্ছে না। বায়োগ্যাস, ড্রেন মিথেন গ্যাস কিংবা মানুষের রান্নাবান্না করার গ্যাস বিস্ফোরিত হয়েছে কিনা এখনো বলা যাচ্ছে না। আমরা তা তদন্ত করে পরে জানিয়ে দেবো।
![]()