দাম বেশী হলেও দেশীয় গরু চাহিদা মিটছে চাঁদপুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুর জেলায় এ বছর ৭০ হাজার কোরবানি পশুর চাহিদা। চাহিদার অধিকাংশ যোগান দিচ্ছে স্থানীয়ভাবে খামারীদের লালন পালন করা পশু। এছাড়াও চরাঞ্চল থেকে একটি বড় অংশ কোরবানির হাটের চাহিদা মিটেছে। জেলার প্রায় ৩০টি ছোট বড় চরাঞ্চল ও শরীয়তপুর জেলার একাংশ থেকে হাটে এসেছে গরু। তবে দাম তুলনামূলক গত বছরের চাইতে কিছুটা বেশী। এর কারণ হিসেবে খামারিরা বলছে গবাদি পশুর সব ধরণের খাদ্যের দাম বেড়েছে। ৭০ হাজার থেকে শুরু করে ১লাখ ৭০-৭৫ হাজারের মধ্যে অধিকাংশ গরু বিক্রি হচ্ছে।

সোমবার (২৬) জুন বিকেলে সদর উপজেলার সবচাইতে বড় এবং সাপ্তাহিক পশুর হাট সফরমালী কোরবানির পশুর হাটে গিয়ে দেখা হাজার হাজার ছোট ও বড় সাইজের গুরু। গরুর মুল হাটসহ আশাপাশের সড়ক ও জমিগুলোতে গুরু নিয়ে বসেছেন বেপারী ও খামারের মালিকরা। আবার অনেকেই ব্যাক্তিগতভাবে বাড়িতে পালিত গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন।

সদরের ইসলামপুর গাছতলা গ্রামের রোমান পাঠান সফরমালী বাজারে এসেছেন ভাগিদারদের নিয়ে কোরবানির জন্য গরু কিনতে। তিনি বলেন, সফরমালী বাজারে ক্রেতা সংখ্যা অনেক বেশী। যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভাল। যে কারণে চরাঞ্চলের লোকজন নদী পথে এই হাটে গুরু নিয়ে আসছে। তমে দাম তুলনামূলক বেশী। কারণ সদরের আরেক বড় বাজার বাগাদীর হাটে গরু থাকলেও ক্রেতা তেমন নেই।

চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোডের বাসিন্দা ও চাল ব্যবসায়ী নাজমুল পাটওয়ারী বলেন, তিনি ১ লাখ ৭১ হাজার দিয়ে একটি ও ১লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মোট দুটি গরু কিনেছেন। তিনি দেশীয় জাতের এই দুইটি গরু কিনে খুবই আনন্দিত। তার ভাগিদার যারা তারাও সন্তুষ্ট।

শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার তারাবুনিয়া থেকে নিজ খামারের ১০টি গরু নিয়ে এসেছেন খামারি জসিম উদ্দিন। তিনি সন্ধ্যার আগেই তার গরুগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। দাম পেয়েচেন প্রতিটি ১ লাখ থেকে ১লাখ ১৫ হাজার টাকা। প্রত্যেকটি গরুর সাইজ প্রায় সমান। ভাল দাম পেয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাপ্তাহিক গরুর বাজারের পরিচালনার দায়িত্বে আছেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর আজিজ খান দুদু। তিনি বলেন, এটি সাপ্তাহিক পশুর হাট। যে কারণে একটি পরিচিতি আছে। দেশীয় গরু কোরবানি দেয়ার জন্য শহরের অধিকাংশ মানুষ এখানে ছুটে আসে। আমরা সার্বিক নিরাপত্তাসহ ক্রেতা-বিক্রেতার সকল সুযোগ সুবিধা চালু রেখেছি।

এদিকে বাজার গুরে দেখাগেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত পুরো বাজার ঘুরেদেখেন এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলেন।

এই কোরবানির হাটের পরে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত চাঁদপুরবাসীর জন্য ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের বাগাদী চৌরাস্তা এবং শহরের স্বর্ণখোলা কোরবানির পশুর হাট।

 

Loading

শেয়ার করুন: