আরেফিন সুমন ॥
চাঁদপুরে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর ) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
সভাপতি মেডিকেল ও ডায়াগনস্টিক সেবা, নাগরিকের জন্য পৌরসভার দায়িত্ব, গণপূর্ত বিভাগ, সড়ক বিভাগ, শিক্ষা প্রকৌশল, বিদ্যুৎ বিভাগসহ অন্যান্য অধিদপ্তরের কাজের অগ্রগতি শোনেন ও দিকনির্দেশনা দেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের চাঁদপুরের চিকিৎসা সেবা অনেকাংশে প্রশ্নবিদ্ধ। সেবার মান অনেকটাই নাজুক। বিশেষ করে বেসরকারী হাসপাতাল গুলোর মান বেশিরভাগই নিম্নমানের। হাসপাতাল গুলোতে ভালো ওটি, প্যাথলজি বা ঔষধের কোনো বালাই নেই। তার উপর কাগজপত্র ঠিক নেই। যত্রতত্র এই প্রতিষ্ঠানগুলো গজিয়ে উঠেছে। তাদের একটাই লক্ষ্য মুনাফা। রোগীদের সুবিধা অসুবিধার জন্য কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আমি সিভিল সার্জনকে বলবো আপনারা ভিজিট করেন। যাদের এসবে কোনো ত্রুটি পাবেন সেসব প্রতিষ্টােেন সিলগালা করুন। আমরা নাগরিক সেবার সাথে কোনো কম্প্রমাইজ করবো না। নাগরিক সেবা বলতেই পৌরসভার প্রসঙ্গ চলে আসে। পৌরসভার প্রশাসক বলেছেন যে রাস্তার কোথাও পানি জমে না আর জমলেও আধা ঘন্টা এক ঘন্টার মধ্যে পানি থাকে না। আমি বলবো পানি জমতেই দেয়া যাবে না। আপনারা অতি সত্ত্বর পানির ড্রেনেজ ব্যবস্থার দিকে নজর দিন। আপনাদের দায়িত্ব নাগরিককে উন্নত রাস্তা, ড্রেনেজ সুয়ারেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, ভালো স্যানিটেশন, যানজট নিরসন ইত্যাদি সেবা দেওয়া। জনগণের মনে কোনো ক্ষোভ জমতে দেয়া যাবে না।
তিনি বলেন, দেখুন আমার জানামতে প্রত্যেকটা দপ্তরের একটা ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থাকে কয়েকটা দপ্তর ছাড়া। সেই হিসেবে সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী দপ্তর বলা হয় গণপূর্ত অধিদপ্তরকে। আপনাদের ভালো ইঞ্জিনিয়ার আছে, কাজের মান ভালো তারপরও আপনাদের কাজ অনেক কম। এটা আমার ঠিক পছন্দ না। আপনারা সবসময় কাজের সন্ধানে থাকবেন। হাসপাতালের বিল্ডিংয়ের প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি আপনারা সংযোগ প্যাসেজ ( কানেক্টিং ওয়ে) করার জন্য একটা প্রস্তাব দিতে পারেন। আপনারা বলছেন আপনারা কাজ পাচ্ছেন না। আপনাদের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন নেই কিন্তু আপনারা বলছেন কাজ নাই। আপনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যান। কোথায় কি করণীয় আছে তা দেখেন। সেটা নিয়ে জরিপ করেন। আমি চাঁদপুর সদর হাসপাতালের পর্দার ব্যবস্থা করতে বলেছিলাম। করেছেন কিনা তা আমি জানি না। আপনাদের দক্ষ জনবল কাজে লাগান। সড়ক ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে বলি, আপনাদের কাজের অগ্রগতি অনেক ভালো তবে আমি দেখেছি মতলবে অনেক আঁকাবাঁকা মোড় আছে। আপনারা দেখবেন এগুলো পুন:সংস্কার করতে পারেন কিনা। আসলে এ মোড় অনেক ভয়ংকর। প্রায় এসব জায়গায় সড়ক দূর্ঘটনা ঘটে। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা আছে কিনা বা থেকে থাকলে আপনারা কি করা যায় তা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই একটা দীর্ঘদিনের অভ্যেস থেকে বের হতে চাইছি। এই যে দেখুন আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ধর্মঘট করলো। অভ্যেসটা ব্যবহার করলেও কি পেলেন? কিছুই না। আপনাদের সেবা জরুরী সেবার অন্তর্ভুক্ত। ক’দিন আগে রাজউকের কর্মচারীরা ধর্মঘটে গেলেন। সরকার দুইদিন পর আইন পাশ করলো যে যারা জরুরী সেবার সাথে জড়িত তারা এসব করতে পারবে না। আপনারা তো রাজউকের চাইতে অনেক বেশি দরকারি সেবা। আন্দোলন করে কখনই দাবি আদায় করা যায় না। আমি শুধু সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলছি যারা সরাসরি সরকারের সাথে জড়িত। আমি আশা করবো আপনারা আলোচনা করে এসব দাবি দাওয়া পূরণ করতে সচেষ্ট হবেন। সেবা কখনোই বিঘ্নিত করবেন না। আমরা আপনাদের নিয়ে এখনো মন্ত্রণালয়ে ভালো রিপোর্ট দিচ্ছি। সারা বাংলাদেশের মতো চাঁদপুরেও অনেক বিদ্যালয় হুমকির মুখে আছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো। গেল বর্ষায় অনেক জায়গায় হাটুঁ পর্যন্ত পানি জমেছিল। নদীতিরবর্তী অনেক বিদ্যালয় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমাদের স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক একটা প্রস্তাব করেছেন। যদি আমাদের বিদ্যালয় গুলোকে স্টিলের দ্বারা ভিত্তি দেয়া যায় তাহলে বন্যা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগে আমরা এটাকে সরিয়ে নিরাপদ দুরত্বে নিয়ে আবার বসাতে পারি। আসলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এ নিয়ে ভেবে দেখবেন করা যায় কিনা। সকল অধিদপ্তরের কাজগুলো নিয়ে আমরা রিভিউ করি, পরামর্শ দেই। যাতে সম্মিলিত ভাবে আমরা বিভিন্ন প্রকল্প শুরু এবং শেষ করতে পারি। এটাই মূলত উন্নয়ন সমন্বয় সভার কাজ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু হায়দার রনি, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: দ্বীন ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক মো: গোলাম জাকারিয়া, চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ. কে. এম. মাহবুবুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: নজরুল ইসলাম, ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আল ইমরান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আলিউল ইসলাম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান আহমেদ টিটো, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান কবির, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু তাহের, পরিবেশ সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: মিজানুর রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নাসিমা আক্তার, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জোর্তিময় ভৌমিক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহসহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
![]()