ফারুক হোসেন
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ব্রিজের কাজ না করেই প্রথম বিল ২০ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নবীপুর, খাগুরিয়া, হাঁপানিয়াসহ অন্যান্য গ্রামের মানুষ চলাচলের জন্য একটি ব্রিজের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪০ লাখ ৫০হাজার টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যে নবীপুর গ্রামের খলের উপর থেকে নান্নু মিয়ার বাড়ি পাশে একটি কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার পর কাজটি পায় সুমন এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর পর পরই ওই স্হানে কালভার্ট নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্য সহকারী মো. আব্দুল কুদ্দুসের নির্দেশে ওই স্হানে খালের দুই পাশে বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশনসহ প্রস্তুতি নেয়। এর কয়েক মাস কালভার্ট নির্মান কাজে কোন অগ্রগতি না দেখে স্হানীয়রা কার্য সহকারী মো.কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান কিছুদিন পরে কাজ শুরু হবে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে নবীপুর গ্রামের নান্নু মিয়ার বাড়ি পাশে সেতু/কালভার্টের নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সেতুর আইডি নম্বর-৯৫৫৪১৭ এর প্রথম চলতি বিল হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের স্মারক নং-৫১.০১.০০০০.০২৪.৪১.৩৮১.২৩-
এদিকে ওই প্রকল্পের কাজ না করে টাকা উত্তোলন করার খবর জানাজানি হলে পি আইও অফিস ভুয়া চিঠি দেখিয়ে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর উপজেলা প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্তে নবীপুর গ্রামের নান্নু মিয়ার বাড়ি পাশে স্হান পরিবর্তন করে হাঁপানিয়া আরশাদ সিকদারের বাড়ি ও কিনাচক এলাকার কালভার্টটি করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ওইখানেও কালভার্ট নির্মানের কোন অস্তিত্ব দেখো যায়নী।
এ বিষয়ে নবীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেন, দ্বীন ইসলাম, আফজাল মোল্লা, সিরাজ মোল্লা, কাঞ্চন বেপারী জানান, আমরা দীর্ঘদিন পিআইও অফিসে দৌড়াদৌড়ি করে ব্রিজের অনুমোদন করাই। পিআইও অফিসের কার্য সহকারী মো.কুদ্দুস এসে আমাদেরকে জানান, এখনে একটি কালভার্ট নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। এখন জানতে পারি উপজেলা প্রকল্পে কর্মকর্তা ও কার্য সহকারী মো.কুদ্দুসসহ ঠিকাদার যোগসাজে প্রকল্পের ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে হাতিয়ে নেয়। ওই প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের কয়েকমাস পর কার্য সহকারী মো.কুদ্দুস বিভিন্ন মাধ্যমে জানায় নবীপুর গ্রামে কোন কালভার্ট নির্মান হবেনা। এই প্রকল্পে অন্য স্হানে নির্মান করা হবে।
বাগানবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাইদুল ইসলাম জানান, যখন জানতে পারলাম এখানে কালভার্টটি নির্মান হবে না। তখন খোঁজা নিয়ে দেখি কালভার্টি নির্মাণ না করে ২০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে এ ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্তের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সুমন এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। আপনারা অফিসে যোগাযোগ করেন।
উপজেলা প্রকল্পে বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান যুগান্তরকে জানান,আমি কয়েকদিন হলো এখানে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে ফাইল দেখে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি যুগান্তরকে জানান, আগের ইউএনও মহোদয় সময় এ প্রকল্পটি পাশ হয়। তবে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছি।
![]()