যাদের ইমেজ সংকটে, তাদের সাথে জোট করার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো : হাসনাত আবদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি

জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, যারা সংস্কার বিশ্বাস করে, তাদের নিয়ে জোট করবো। যাদের ইমেজ সংকটে, তাদের সাথে জোট করার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।

 

সোমবার রাতে  এনসিপি জেলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা নাকি ২০টি আসন এবং মন্ত্রীর বিনিময়ে বিএনপির সাথে জোট করে ফেলেছি। আরে নাহ, এনসিপি অতো পাগল হয় নাই। প্রয়োজনে নিরীহ জনগণকে নিয়ে সরকার গঠন করবে এনসিপি। যারা মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে, তাদের সাথে জোট করে নির্বাচন না করে মরে যাওয়া ভালো।

তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনকে বানচাল করে দেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে একটি মহলকে চক্রান্ত করতে দেখা পাচ্ছি। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য আমাদের রাজনৈতিক যেই দায় রয়েছে, তা আমরা এড়াতে পারি না। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এনসিপি একাধিকবার মিডিয়া প্রবাগান্ডের শিকার হয়েছে। সেই প্রবাগান্ডের মধ্য থেকে আমরা ফ্যাক্ট তুলে ধরেছি।

হাসনাত বলেন, জুলাই সনদের আদেশ অবশ্যই ডক্টর ইউনুসকে দিতে হবে। যারা মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে তাদের সাথে জোট করে নির্বাচনে থেকে মরে যাওয়া ভালো। হাইব্রিড নেতারা বিএনপিকে ইতিমধ্যে হাইজ্যাক করে নিয়ে গেছে। এটি আর রাজনীতিবিদদের হাতে নাই।

নিজ দল সম্পর্কে তিনি বলেন, অনেকেই এখন চায়ের দোকানে বসে মশকরা করে এনসিপি করেন, ভোটের পর আর খবর থাকবে না। আমি তাদেরকে বলবো ভালো কাজ অল্প সংখ্যক লোক দিয়েই শুরু হয়। অনেক সময় বলা হয় সমাজে যারা সংখ্যায় বেশি তারাই কল্যাণকামী। এটা ভুল। কল্যাণকামীরা সবসময়ই কম সংখ্যক হয়। হাসিনার সময় যারা লড়াই সংগ্রাম করেছে, তাদের সংখ্যাও কম ছিলো।

নিজ দলের নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা অনেকেই কোরাম করছেন। কি নিয়ে কোরাম করছেন। আজকের উপস্থিতি দেখাগেছে এই জেলার ৮ উপজেলায় যে জনপ্রতিনিধি দরকার সেই পরিমান লোক এখানে উপস্থিত হয়নি। তাহলে কিভাবে আপনারা কাজ করবেন। কোরাম করা লোকদেরকে আমাদের প্রয়োজন নেই। ভালো ১০জন দিয়ে এনসিপির কমিটি হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, আমরা দেখছি ভালো নির্বাচন হবে। তবে অনেকেই ব্যালট না নিয়ে বুলেট বেছে নিয়েছে। তারা ভাবছে বুলেটের ভয় দেখিয়ে দেশের মানুষকে ফ্যাসিবাদি শাসনের মত নিয়ে যেতে পারবে। ইতোমধ্যে এনসিপির বিষয়ে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছেন, যদি এনসিপিতে ভোট দাও, তাহলে নির্বাচনের পরে খবর আছে। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, যারা ভয়পায়, তারাই জনগণকে ভয় দেখায়। যারা ভয় দেখায়, তারা অতি নিকটবর্তী ক্ষতির মধ্যে আছে। যারা সাহসী মানুষ তারা ভয় দেখায় না, তারা মানুষের সাথে মিলেমিশে কাজ করে। একটি দল এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আতাউল্লাহ,কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মুহাম্মদ মিরাজ মিয়া, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোঃ আরিফ তালুকদার,কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক নাভিদ নাওরোজ শাহ্,কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মোঃ মাহবুব আলম, এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ মাহবুব আলম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তি নেতা মো. সাগর হোসেন।

সভায় বক্তারা জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান এবং দলের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

Loading

শেয়ার করুন: