হাইমচর প্রতিনিধি ॥
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ২নং আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের লামচরী গ্রামে একটি কালভার্ট নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার চরভৈরবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঠিকাদার ইউসুফ জুবায়ের শিমুলের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি পুরনো রড, ইট ও নিম্নমানের কংক্রিট ব্যবহার করে কালভার্টের নিচের ফ্লোরের ঢালাই কাজ করছে। এই অনিয়মের কারণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগে এই স্থানে নির্মিত দুটি কালভার্ট বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে গিয়েছিল। বর্তমানে যে কালভার্টটি তৈরি করা হচ্ছে, তার নির্মাণ কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় বর্ষা শুরুতেই এটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসী সরকারি বাজেট অনুযায়ী নতুন ও উন্নত মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কালভার্টটি তৈরির জোর দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশল এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এডিপি থেকে কালভার্ট নির্মাণের জন্য ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। কাজটি পেয়েছেন চরভৈরবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার ইউসুফ জুবায়ের শিমুল। তবে, তিনি কাজটি একজন সাব-কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে করাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সড়কটি কয়েক হাজার মানুষ ব্যবহার করে। পূর্বে নির্মিত দুটি কালভার্ট ভেঙে যাওয়ার পর তৃতীয়বারের মতো এখানে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি সরকারি নিয়ম মেনে টেকসই কালভার্ট নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল হাসান জানান, এডিপি থেকে বরাদ্দকৃত কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি উপসহকারী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নতুন সামগ্রী দিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্মাণসামগ্রী এলে তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত থেকে কাজটি তদারকি করবেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা নাজনীন তৃষা জানান, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি জানার পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পুরনো সামগ্রী পরিবর্তন করে নতুন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে।
তবে, অভিযুক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রধান ইউসুফ জুবায়ের শিমুলের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় এলাকাবাসী কিছুটা আশ্বস্ত হলেও কাজের গুণগত মান বজায় রাখা এবং অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
![]()