হাসান মাহমুদ, হাজীগঞ্জ
পবিত্র মাহে রমজানের শেষ জুমা জুমাতুল বিদায় হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় জামে মসজিদের মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। উপজেলা, জেলা ও দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসে এক কাতারে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সকলের জুমার নামাজ আদায় করেছেন। মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল জেলার বৃহত্তম এ মসজিদটি।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) জুমার নামাজের আগেই পরিপূর্ণ হয়ে যায় এই পবিত্র স্থান। জুমার নামাজে ইমামতি করেন, মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি মো. আব্দুর রউফ। নামাজ শেষে তিনি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। এসম মুসুল্লীদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জুমার নামাজের আজানের আগেই মুসল্লিরা নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রবেশ করতে থাকেন। বেলা সোয়া ১২টা পার হতেই মুসল্লিদের ঢল নামে মসজিদে। বেলা ১টা বাজতেই কানায় কানায় পূর্ণ হয় মসজিদের দো-তলাসহ ভেতর-বাহির, মাঠসহ মসজিদসহ বিভিন্ন মার্কেট প্রাঙ্গণ।
পরবর্তীতে মসজিদের মাঠ, আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ ও ভবন, জামেয়া আহমাদীয়া কওমী মাদ্রাসা ভবন, হাজীগঞ্জ টাওয়ার, রজনীগন্ধ্যা মার্কেট, হাজীগঞ্জ প্লাজা, বিজনেস পার্ক মকিম উদ্দিন শপিং সেন্টার, প্রাইম ব্যাংক ভবন, রয়েল রওশন সুপার মার্কেট, হাজীগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেটের কানায় কানায় মুসুল্লীরা নামাজের কাতারে দাঁড়িয়ে যান।
এরপর নামাজের আগ মূহুত্বে মসজিদের ভেতরে তিল ধারনের জায়গা না থাকায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে দেখা যায়। নামাজ চলাকালীন সময়ে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
জুমআ’তুল বিদা’র জামায়াত প্রসঙ্গে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের ভারপ্রাপ্ত মোতাওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ্ প্রখর রোদ উপেক্ষা করে বিশাল জামায়াতে নামাজ আদায় করেছি। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীর সংখ্যা বেড়েছে। আমরাও সাধ্যমত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায়ে আমাদেরকে হাজীগঞ্জ পৌরসভা, হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় সংস্থাসমূহ, বাজারের ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত সহযোগীতা প্রদান করেছে। আমি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতেও তাদের এমন সহযোগীতা প্রত্যাশা করছি।
![]()