নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
চাঁদপুরসহ ৪৯টি জেলায় নতুন জেলা স্কুল স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এই স্কুলগুলো প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত (উচ্চমাধ্যমিক) পরিচালিত হবে। জেলা পর্যায়ে মানসম্মত ও সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই জেলা স্কুল করার মূল উদ্দেশ্য ।
এ বিষয়ে গতকাল রোববার এক সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর আনম এহসানুল হক মিলন বিস্তারিত বলেন। সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জেলা স্কুল মূলত: একটি জেলার শিক্ষার ‘ব্র্যান্ড’ বা আদর্শ হিসেবে কাজ করবে।জেলা স্কুলগুলো সাধারণত অভিজ্ঞ শিক্ষক, উন্নত পাঠ্যক্রম এবং কঠোর তদারকির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।প্রতিটি জেলায় এমন একটি স্কুল থাকলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা মেধার ভিত্তিতে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।
তিনি আরো বলেন, অনেক সময় গ্রামের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক অভাব বা যাতায়াত সমস্যার কারণে ঢাকা বা বড় শহরে গিয়ে পড়তে পারে না। নিজ জেলায় একটি মানসম্মত সরকারি স্কুল থাকলে সেই মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা ঘরের কাছেই নিজেদের বিকশিত করার প্ল্যাটফর্ম পাবে।
মন্ত্রী বলেন,বেসরকারি নামী স্কুলগুলোর বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ অনেক বেশি থাকে। জেলা স্কুলগুলো সরকারি অনুদানে পরিচালিত হওয়ায় নামমাত্র খরচে উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত—সব শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পায়। এতে অভিভাবকদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমবে।
একটি জেলায় যখন একটি উন্নত জেলা স্কুল থাকে, তখন আশেপাশের অন্যান্য বেসরকারি বা এমপিওভুক্ত স্কুলগুলো তাদের অনুসরণ করার চেষ্টা করে। এটি পুরো জেলার শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করে।
এহসানুল হক মিলন বলেন, জেলা স্কুলগুলোতে শুধু পড়াশোনা নয়, বরং বিতর্ক, খেলাধুলা, স্কাউটিং এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বেশি জোর দেওয়া হবে।
এটি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং জেলা পর্যায়ে দক্ষ নেতৃত্ব তৈরিতে সাহায্য করবে।
![]()