জাবি ছাত্রী খাদিজার মায়ের দাবী হত্যা কারী ফাহিম

 

 

আনোয়ারুল হক ॥

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্রী শারমিন জাহান খাদিজা (২৫) দাফন করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপরে চাঁদপুরের কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের তেতৈয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে তেতৈয়া গ্রামের মোল্লা বাড়ির পারিবারিক কবরের স্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সাভারের ইসলামনগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত খাদিজা চাচা ঘটনায় নিহতের চাচা মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার দিন রাতেই তার স্বামী ফাহিম আল হাসান আটক হন।তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। তিনি ঢাকার একটি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা।

নিহত শারমিন জাহান খাদিজা কচুয়া উপজেলার ৬নং কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের মোল্লা বাড়ির সৌদি প্রবাসী শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী ছিলেন।গত বছরের জুন মাসে তারা পরিবারের অগোচরে বিয়ে করার পর থেকে আশুলিয়ার ইসলামনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

নিহতের প্রতিবেশিরা জানান, শারমিন জাহান খাদিজা খুবই মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের মেয়ে ছিলেন।পরিবারের স্বপ্ন ছিল উচ্চ শিক্ষা গ্রহন শেষে দেশের নামকরা মানুষ হবে।

নিহত ছাত্রী শারমিন জাহান খাদিজা মা ফরিদা ইয়াছমিন জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত ছাত্রী শারমিন জাহান খাদিজা পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে ঘটনার দিন রোববার (১৫ মার্চ) সকালে চাঁদপুরের কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের বাড়ির যাওয়ার কথা ছিল ।

তিনি বলেন, আমার মেয়েকে ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে বাড়ী ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিথর দেহ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। মেয়েকে তার জামাই প্রায়ই অত্যাচার করতো। তাকে হত্যার আগের দিন শনিবার মেয়ের সাথে কথা ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে আমাদের বাড়ী মেয়ে আসবে। ওইদিন ভোররাতে সেহেরী খাবার সময় তাকে ফোন করা হলে কল রিসিভ করে মেয়ের জামাই। আমি তাকে বলি খাদিজাকে ফোনটি দেও । আমি খাদিজার সাথে কথা বলব। জামাই বাহানা করে বলে খাদিজা রান্না আছে। সেহেরী খাবার সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে পরে কথা বলবে। এসময় সে ফোনের সংযোগটি কেটে দেয়। পরে দিন (রোববার ঘটনার দিন) সকালে মেয়ের নাম্বারে ফোন করা হলে তার নাম্বারটিতে কল ঢুকেছে না, তাই জামাইকে ফোন করি। প্রতি উত্তরে জামাই বলে আমি বাসায় থেকে বের হয়ে গেছি। এখন ঢাকায় আছি। খাদিজার শরীরের পেসার কমে গেছে সে অসুস্থ্য একারণে হয়তো ফোন ধরছে না। এরপর বিকালে শুনি আমার মেয়ে আর নেই। সে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে । আমি এই হত্যার ন্যায় বিচার চাই।

শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজার চাচা ও মামলার বাদী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন,তার মা ঘটনার দিন সকালে খাদিজার ও স্বামী ফাহিম আল হাসানকে ফোন করেন। তিনি খাদিজার ফোনে কথা বলতে চাইলে তার স্বামী ফাহিম আল হাসান জানান সে ঘুমিয়ে আছে। পরে কথা বলবে এ বলে সে ফোনের লাইন কেটে দেয়। বিকালে আমরা জানতে পারি খাদিজা মারা গেছে। এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকঅণ্ড। এই হত্যার রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার চাই।

কচুয়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইউসুছ মোল্লা বলেন, এঘটনায় আমরা শোকাহত । ধরণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। এই হত্যার রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার দাবী করছি।

Loading

শেয়ার করুন: