ব্যবসার প্রলোভনে টাকা আত্মসাতে চার প্রতারক গ্রেফতার

 

সাহাদাত হোসেন :

ফার্নিচার ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অনলাইন প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।সোমবার (১২ জানুয়ারী) দুপুরে চাঁদপুরে উত্তর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এতথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃরা হলেন নজরুল ইসলাম ওরফে নজু (৫৭), মো. আল আমিন ওরফে রিফাত (৩০), হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনির হোসেন (৪৫) এবং রাব্বি হোসেন ওরফে জাবেদ (২৪)।

পুলিশ জানায়, নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার জহিরুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবক গত ১১ জানুয়ারি মতলব উত্তর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তিনি অভিযোগেপত্রে উল্লেখ করেন, অনলাইনে হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনির নামে এক ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। সখ্যতা গড়ে ওঠার পর তাকে ফার্নিচার ব্যবসার লোভনীয় অফার দেওয়া হয়। প্রতারক চক্রটি জহিরুলের কাছ থেকে নগদ অ্যাকাউন্ট ও ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন দফায় মোট ৮,৯৮,০০০ (আট লক্ষ আটানব্বই হাজার) টাকা হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

অভিযোগ পাওয়ার পর মতলব উত্তর থানা পুলিশ এক বিশেষ অভিযান শুরু হয়। প্রথমে মতলব উত্তরে অভিযান চালিয়ে নজরুল ইসলাম ওরফে নজু এবয় আল আমিন ওরফে রিফাতকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার ও বুড়িচং এলাকা থেকে হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনির হোসেন ও রাব্বি হোসেন ওরফে জাবেদকে গ্রেফতার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে। এ চক্রটি মূলত গ্রামের সহজ-সরল মানুষ এবং বিশেষ করে নারীদের টার্গেট করতো। বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের এনআইডি কার্ড দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতো। এরপর সেই অ্যাকাউন্টের চেক বই, ডেবিট/ভিসা কার্ড এবং নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরটি প্রতারক চক্রটি নিজেদের দখলে রাখতো।পরে তারা টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতো এবং ওই সব বেনামী অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বাধ্য করতো।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত মালামাল ও আইনি ব্যবস্থা মূল হোতা হেদায়েত উল্লাহ মনিরের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৬টি ব্যাংক চেক বই, ১৯টি ডেবিট/ভিসা কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় মামলা হয়েছে । চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে এবং এই নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Loading

শেয়ার করুন: