সড়কে রুট পারমিট ছাড়া বাস চলবে না : জেলা প্রশাসক

 

আরেফিন সুমন :

চাঁদপুর বাস চলাচলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বাস মালিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাস্তায় শৃঙ্খলা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে জন্য চাঁদপুর জেলা প্রশাসন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তারই ধারাবাহিকতায় জেলার বাস মালিকদের সাথে  বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে আপনারা ট্রাফিক আইন মেনে চলেন না। বিশেষ করে শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে সামান্য বাবুরহাট থেকে আপনারা যত্রতত্র গাড়ি থামান। যেখান সেখান থেকে আপনারা যাত্রী উঠান। তারপর আপনারা সড়কের মাঝখানে গাড়ি রাখেন। এরকম হাজার অভিযোগ আছে। আপনাদের কারনে অনেক যাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়। আপনাদের এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কয়েকটি বাসের নাম না উল্লেখ করে বলি আপনারা যে বাস রোডে চালান আপনাদের অনেকের রুট পারমিট নাই। আর গেল ছাত্র আন্দোলনের পর অতিরিক্ত ভাড়ার ব্যপারটাতো আছেই। ফিটনেসবিহীন গাড়ি তো আছেই তার উপর ফিটনেস বিহীন চালক দিয়ে আপনারা বাস সড়কে চালান। আমি শিওর সভায় যেসব সিদ্ধান্ত হয় আপনারা এখান থেকে গিয়ে বাস চালকদের নিয়ে এসব আলোচনা করেন না। এভাবে চলতে পারে না। আমি এসব ব্যপারে আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, জৈনপুর, আনন্দ এসব বাসকে আমি রাস্তায় এলোমেলো অবস্থায় দেখি। এগুলো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আপনাদের অনেকেরই নিদিষ্ট টার্মিনাল নেই। আমরা মনে করি শুরুতে এই জায়গাতেই আমাদের উন্নতি করতে হবে। আমি আপনাদের সবাইকে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে আজ ডেকেছি। আমাদের একটাই লক্ষ্য আমরা নিয়মের মধ্যে চলবো। নিয়মের বাত্যয় ঘটলে আমি তা দমনে কঠোর হবো।

আপনারা মানেন আর নাই মানেন বাংলাদেশের যেকটা সেক্টরের মধ্যে নৈরাজ্য আছে তার মধ্যে পরিবহন সেক্টর একটা। আমি উদাহরণ দেই। পদ্মা, আল আরাফা এসব বাসগুলোর হয় রুট পারমিট নেই অথবা কাউন্টার নেই বা সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র নেই। আপনারা রুট পারমিট না পেয়ে বাস নামেন অথচ আমি অবহিত করা হয় না, এটা অন্যায়। আপনাদের আমার চাহিদা মত চলতে হবে। আপনাদের কোনো কোনো বাসের সংখ্যা হচ্ছে বিশটা অথচ আপনার রুট পারমিট নেয়া আছে দশটার। এই জেলা থেকে রুট পারমিট নেয়া না থাকলে আমার কাছ থেকে তো অনাপত্তিপত্র নিবেন। আপনারা সেটাও নেন না। কেউ কেউ রুট পারমিটের বেশি রুটে বাস চালান। যেমন আনন্দ পরিবহনের রূট পারমিট হলো দুইটা আর বাস মালিক চালায় সাতচল্লিশটা রুটে। আপনারা রুট পারমিট পেলে আমাকে, পুলিশ সুপার আর বিআরটিকে জানানো আপনাদের দায়িত্ব। আপনারা আমার কাছে রূট পারমিটের জন্য সুপারিশ করবেন আর অন্য আরেকজন সেবার মান ভালো দিচ্ছে বিধায় তাকেও ঢুকতে দিবেন না। আমরা আপনাকে এই কথা বলার জন্য ডেকেছি যে আপনার লাইসেন্স আছে, রুট পারমিট আছে গাড়ি চলবে। নতুবা একটা গাড়িকেও আমি সড়কে নামতে দিবো না।

তিনি আরও বলেন, এতক্ষণ আপনাদের দোষ গুলো আমি বললাম। এখন আমাদের নিয়ম গুলোও আপনাদের শোনা উচিত। আপনারা রুট পারমিট, লাইসেন্স ছাড়া বাস চালাতে পারবেন না। আপনি স্টপেজ ছাড়া গাড়ি চালাতে পারবেন না। আপনাদের নিজস্ব বাসগুলোর টার্মিনাল থাকতে হবে না হলে আমাদের টার্মিনালের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী গাড়ি সেখানে থাকবে। আমাকে চাহিদা দেখাতে পারলে আমি রুট পারমিট দিয়ে দিবো। আমি চাহিদার বেশি বাস চলতে দিতে পারি না। আর রূট পারমিটের ব্যপারে আপনাদের হয়রানি আমি হয় কি হয় না সেটা আমি দেখবো এটা আপনাদের কথা দিলাম। আপনাকে সৎ হতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির ব্যপারে আমি ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, বিআরটিএকে বলবো যেহেতু আইন এখনও হয় নাই সেহেতু এটা একটু মাথায় রেখে আপনারা কাজ করবেন। আইন হলে তখন আমরা মুল একশানে যাবো।অন্য আইন লংঘন করলে শাস্তি দেন, সমস্যা নেই। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখেন। আপনারা সবাই আপনাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হোন। আসুন আমরা একটি ঝামেলামুক্ত, নির্ঝঞ্জাটমুক্ত সড়ক তৈরি করি।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: লুৎফুজ্জামান, বিআরটিএর সহকারি পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো: কামরুজ্জামান, ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) মো: মাহফুজ মিয়া । সভায় জেলার বিভিন্ন বাস মালিকগণ, ব্যবস্থাপক ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

Loading

শেয়ার করুন: