আমরা বাংলাদেশে এমন ধ্বংসের পরে আর কোন চুরির খেলা দেখতে চাই না

 

 

মাসুদ রানা ॥

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, যে দেশে আপনার বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাইলে তার মাথায় ভবন ভেঙে পরবে, আকাশ থেকে বিমান আছড়ে পরবে এধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা আমরা চাইনা। এসবের সঠিক তদন্ত করা হোক। শেখ হাসিনার আমলে কি পরিমান দুর্নীতি হয়েছে তা আমরা জানি। বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান ৩ হাজার কোটি টাকা দূর্নীতি করেছে। এ দূর্নীতি গুলো হাসিনার আমলেই হয়েছে। বিমান বাহিনী যে সকল সদস্যরা আছেন আমরা আপনাদের নিরাপত্তা চাই। আপনারাও ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিমান বাহিনীতে যে সকল বিমান আছে এগুলো নিরাপদ কিনা সেগুলা খতিয়ে দেখুন। আজ চাঁদপুরের এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন

রাষ্ট্রীয় শোক পালন শেষে চাঁদপুর থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২৩ জুলাই বুধবার তাদের মাসব্যাপী পদযাত্রা পুনরায় শুরু করেছে।

নেতৃবৃন্দ গতকাল মঙ্গলবার চাঁদপুর এসে অবস্থান করেছেন। আজ সকাল দশটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে জুলাই বিপ্লবের নিহত এবং আহত পরিবারের সদস্যদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। বেলা ১১ টায় শোকযাত্রা নিয়ে শহরের বাস স্ট্যান্ড এলাকায় পথসভায় মিলিত হন।

সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ আরো বলেন, ড. ইউনুসের স্বজনপ্রীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ সাস্থ্য উপদেষ্টা, বেতন-ভাতা ফেরত দিয়ে সাস্থ্য উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে। ড. ইউনুসের স্বজনপ্রীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ এই সাস্থ্য উপদেষ্টা। এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কোন প্রয়োজন নাই। আপনারা উনার কোন একটিভিটি দেখছি না। তিনি যে বেতন নেন তা হারাম হবে। তিনি সরকারি টাকায় যে গাড়িতে চড়েন, তা জনগণের সাথে বেইমানির সমান। এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা কোন কাজের না। তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বুঝেন না। চিকিৎসা বুঝেন না। উনার একমাত্র যোগ্যতা তিনি গ্রামীণ ব্যাংকে ছিলেন এবং ডঃ মোঃ ইউনূসের খুব কাছের মানুষ। এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা দিয়ে আমরা কি করবো। যিনি নিজের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে যে বেতন ভাতা দেওয়া হয়েছে,তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে পদত্যাগ করা উচিত।

সভার শুরুতে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এসময় জুলাই আন্দোলনের নেতাদের কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে শহীদ পরিবারের সদস্যরা। স্বজন হারিয়ে তাদের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দের কাছে। পরে চাঁদপুর সার্কিট হাউস থেকে শোক রেলি নিয়ে সভাস্থলে আসেন।

জুলাই বিপ্লবে আপনাদের যে সকল সন্তানরা শহীদ এবং আহত হয়েছে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পথসভায় চাঁদপুরবাসীর উদ্দেশ্যে সারজিস আলম বলেন, আপনারা যারা এই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের কারণে আমরা সাহস এবং উৎসাহ পাই। তিনি বলেন আমাদের আজকের এই উন্মুক্ত মঞ্চে উপস্থিত শহীদ এবং আহত পরিবারের সদস্য, সহযোদ্ধা, বিএনপি, জামায়াত, গণধিকার পরিষদসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের যে সমস্ত ভাইয়েরা আছেন আপনাদের সহায়তায় আমরা শক্তি পাই।

মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তর ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। আমরা বাংলাদেশে তদন্ত কমিটির খেলা আর দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই এই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে তদন্ত কমিটি গুলো প্রত্যেকটা ঘটনার পিছনে কোন ব্যক্তি দায়ী, তা বের করুন। এছাড়া কোন সিস্টেম দায়ী? কোন প্রতিষ্ঠানগুলো দায়ী? সেগুলো খুজে বের করে তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরকে যেন শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়।

তিনি আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশে এমন ধ্বংসের পরে আর কোন চুরির খেলা দেখতে চাই না। এই ঘটনায় আমরা যাদেরকে হারিয়েছি, যারা আহত এবং নিহত হয়েছে তাদের প্রত্যেকের কাছে সর্বোচ্চ দিয়ে এই সরকারকে দাঁড়াতে হবে। যারা দায়ী হবে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করতে হবে এবং এই সরকারকে সেই দায়িত্বও নিতে হবে।

আমরা স্পষ্ট করে ঘোষণা দিচ্ছি। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে, ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আমরা যারা লড়াই করেছি তাদের মধ্যেও মতবিরোধ থাকতে পারে কিন্তু সেই সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর আমাদের মধ্যে ঢুকে অরাজকতা তৈরি করবে সেই সুযোগ আর আমরা এই বাংলাদেশে দিবো না। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, নাম ভিন্ন হতে পারে, আমরা বিভিন্ন নামে রাজনৈতিক লড়াই করতে পারি কিন্তু যদি আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতির মাঠে আসে তাহলে আমরা সবাই মিলে আবার তাদেরকে প্রতিহত করব।

আমাদের নিজেদের মধ্যেও মতপার্থক্য থাকতে পারে, সেই মতপার্থক্যের সুযোগ নিয়ে আমাদের মধ্যে ফাটল ধরিয়ে সুযোগ নেয়ার জন্য অনেকে দাঁড়িয়ে আছে আমরা এই বাংলাদেশে আর কাউকে সুযোগ দিব না। আমাদের যারা শহীদ এবং আহত হয়েছে এই সরকার সেই খুনিদেরকে বের করে বিচার করতে হবে। রায় গুলোকে কার্যকর করতে হবে। যদি না করে তাহলে বর্তমান সরকার সন্তান হারানোর বেদনা এবং ভাই হারানোর বেদনা ঋণ এ সরকার কোনদিনই পরিশোধ করতে পারবে না। সংগ্রামী সহযোদ্ধারা আমাদের আসল লড়াই মাত্র শুরু হয়েছে, আমাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এ যুদ্ধ ঐক্যবদ্ধভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সমন্বয়ক সামান্তা শারমিন, জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় আহবায়ক এডঃ সাইফুল ইসলাম, চাঁদপুর জেলা সমন্বয়ক মাহবুবুল আলম, যুগ্ন সদস্য সচিব এনসিপি যুব শক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব ইসরাত জাহান বিন্দু, সংগঠক মেহেদী হাসান তানিম, জেলা যুগ্ম সমন্বয়ক তামিম খান, মুফতি মাহমুদুল হাসান, সদস্য সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

চাঁদপুরের পথসভা শেষে নেতৃবৃন্দ কুমিল্লা যাওয়ার পথে বেলা ২ টায় হাজীগঞ্জে শহীদ আজাদ চত্বরের উদ্বোধন করেন। এর পর শাহরাস্তি উপজেলার দোয়াভাঙ্গায় আরো একটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন।

Loading

শেয়ার করুন: