স্টাফ রিপোর্টার ॥
চাঁদপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ের ক্রয়কৃত জায়গা নিয়ে ২৫ পয়েন্ট জায়গা দখলের হুমকির অভিযোগ এনে ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন মীর আহম্মদ আলী পরিবার। জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক তার জায়গা দখল করার হুমকি দিচ্ছে- মর্মে বক্তব্য প্রদান করেন তারা। প্রবাদ আছে সত্যের ঢোল বাতাসে বাজে। এবার মীর আহমদ আলী নিজে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিক সম্মেলন করে বললেন ভিন্ন কথা। মীর আহমদ আলী দাবি আমাকে রাজনৈতিক দাবার গুটি বানিয়ে ইব্রাহিম কাজী জুয়েল মানিক ভাইয়ের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করিয়েছে। মানিক সাহেবের বিরুদ্ধে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে অভিযোগ করার কথা ছিল সেদিন। এসব কিছুই গুছিয়ে দিয়েছেন ইব্রাহিম কাজী জুয়েল।
বুধবার দুপুর ১২টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মীর আহমেদ আলী।
এসময় তিনি তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ্য করেন, গত ৪ ডিসেম্বরের সাংবাদিক সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় আজ এই প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হয়ে বলছি যে গত বেশ কিছুদিন যাবৎ কিছু লোকজন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেবের লোক অমুক নেতা আমাদের পাঠিয়েছে এই বলে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে আমার দোকান থেকে টাকা না দিয়ে মালামাল নিয়ে যেতো। বলতো পাশের জায়গা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেব পার্টি অফিসের জন্য নিয়েছে। এখন তোরটা দিতে হবে। তাদের এরূপ হুমকি-ধমকি মানুষিক নির্যাতনে আমি অসুস্থ হয়ে পরি। কোনোরূপ যাচাই-বাছাই না করে কতিপয় ষড়যন্ত্রকারীর পরামর্শে মানিক সাহেবকে দায়ী করি। কিন্তু পরবর্তীতে আমার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করে জানতে পারি উনার শত্রু ষড়যন্ত্রকারীরা লোকজন ভাড়া করে লুটতরাজ ও হুমকি-ধমকির মাধ্যমে আমাকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের এই নোংরা রাজনীতি খেলার শিকার মানিক সাহেব এবং আমাকে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করে। উক্ত ঘটনার মানিক সাহেবের সম্মানের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সেজন্য আমি মানিক সাহেবের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। সমস্ত সাংবাদিক মহল, চাঁদপুরবাসী, বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে- বিশেষ করে তারেক সাহেবের কাছে নিঃস্বার্থ ক্ষমা চাই।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, চাঁদপুর বিএনপির দুঃসময়ের ও দুদিনের কান্ডারী মানিক সাহেবের শত্রুরা আমার মাধ্যমে রাজনৈতিক খেলা খেলে ওনার সম্মানহানি ঘটানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকায় যে মানববন্ধন হয়েছে সেখানে আমার এক আত্মীয় পুরাণবাজারে লিটন আমাকে ইব্রাহিম কাজী জুয়েলের কাছে নিয়ে যায়। তখন তিনি আমার ২৫ পয়েন্ট জায়গা দিতে হবে না, মানিক সাহেব পুরান বাজার নতুন বাজারে অনেক জায়গা দখল করেছেন। আমার পুরো দোকান দখল করবে। এসব কথা বলে আমাকে মানসিক টর্চার করে। সবকিছু উনি ব্যবস্থা করে দিবেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে অভিযোগ করাবেন। ঢাকার সাংবাদিকদের সামনে উনার শিখিয়ে দেওয়া কথাগুলো উপস্থাপন করতে আমাকে ও আমার পরিবারকে বাধ্য করে।
আসলে চাঁদপুর জেলা বিএনপি কিংবা মানিক সাহেবের কোন লোক আমাদের কাছ থেকে কোন জায়গা দখল করতে আসেননি। তারা যে মালিকের থেকে জায়গা কিনেছে তার দাবি আমাদের দোকানে তার ২৫ পয়েন্ট জায়গা রয়েছে। আমার অন্যান্য ভাই-বোনদের সাথে যোগাযোগ করে জায়গা মেপে তারা পেলে তাদের দিয়ে দেওয়া হবে। আমাকে মানসিক চাপ দিয়ে তারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। মানিক সাহেবের বিরুদ্ধে আনীত সম্পূর্ণ অভিযোগ অন্যজনের পরোচিত মিথ্যা বানোয়াট।
চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্তর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমনের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ ও চাঁদপুর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।
![]()