জিএম শাহীন ॥
দীর্ঘদিন পর গণতন্ত্রে ফেরার ভোট উৎসব শেষ হয়েছে। এখন চলছে ফলাফল নিয়ে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ। চাঁদপুরের ৫টি সংসদীয় আসনে ৩৬ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো। এর মধ্যে ২৫ প্রার্থীর সবাই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট পেলে সেই প্রার্থীর জামানত রক্ষা হবে।
চাঁদপুরে ৫টি আসেনে ১৪টি রাজনৈতিক দলের ৩৪ প্রার্থী এবং ৩ জন স্বতন্ত্র মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়া ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫ প্রার্থী হারিয়েছেন জামানত।
জামানত রক্ষা হয়েছে নির্বাচিত ৫ প্রার্থীসহ মাত্র ৬ জনের । যার মধ্যে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ৩ জন, লিবারের ডেমক্রেটিক পার্টি এলডিপির প্রার্থী ২ জন আর বিএনপির প্রার্থী ১ জন। জামানত হারানোর তালিকায় রয়েছে চেয়ার প্রতীকের দল বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এমন হোসেন মিয়ার মতো প্রার্থী।
এবারের সুষ্টু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে এতো প্রার্থী জামানত হারানো নিয়ে ভোটাররা বলছেন রাজনৈতিক দল গুলো গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে না পারার কারণে এমটাই হয়েছে। চাঁদপুর সদরের ভোটার আবু সুফিয়ান হেলাল জানান, নির্বাচনে যে সব মানুষ প্রার্থী হয়েছে তাদের অনেককেই আমরা চিনি না জানি না। ভোট দিবো কেমনে।
চাঁদপুরে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির ৪ জন , ইসলামী আন্দোলনের ৪ জন , ইসলামিক ফ্রন্টের ৩ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৩ জন , গণফোরামের ৩ জনসহ, বাংলাদেশ কমিনিষ্ট পার্টি, নাগরিক এক্য, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, লেবার পার্টি, রিপাবলিক পার্টিসহ ২ স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভরাডুবি হওয়া প্রার্থীরা তাদের দলের কর্মী ও নির্বাচনী এজেন্টর চেয়েও কম ভোট পেয়েছে । প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে চার সংখ্যা পার হতে পরে নাই ১৭ জন প্রার্থী।
এবারের নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন ৬ জন প্রার্থী। জামনাত হারিয়েছেন ৪ জন। এর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ২১৭ ভোট,গণফোরাম প্রার্থী পেয়েছেন ৩২৯ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ৬৫২ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট প্রার্থী পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭১ ভোট।
চাঁদপুর -২ আসনে নির্বাচন করেছেন ৮ জন প্রার্থী । জামানত হারিয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী পেয়েছন ১৪৩ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ২৮৩ ভোট, গনঅধিকার পরিষদের প্রার্থী পেয়েছেন ৩২৫ ভোট, বাংলাদেশ রিপাবলিকনার পার্টি পেয়েছেন ৫০৯ ভোট, জাতী পার্টির প্রার্থী পেয়েছন ১৩২৮ ভোট।
চাঁদপুর-৩ আসনে নির্বাচন করেছে ৭ জন। জামানত হারিয়েছে ৫ জন। এর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী পেয়েছন ১৩২ ভোট, গণফোরাম প্রার্থী পেয়েছেন ৩০৭ ভোট, বাংলাদেশ কমিনিষ্ট পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ৬৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী পেয়েছেন ১৪হাজার ১৮১ ভোট।
চাঁদপুর-৪ আসনে এবারের নির্বাচেনে অংশ নিয়েছে ৮ জন। জামানত হারিয়েছে ৫ জন । স্বতন্ত্র পার্থী জাকির হোসেন পেয়েছেন ১৮৪ ভোট, গষফোরাম প্রার্থী পেয়েছেন ২৪০ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ২৭৭ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট প্রার্থী পেয়েছেন ৫০৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী পেয়েছেন ৫২৬১ ভোট।
চাঁদপুর-৫ আসনে নির্বাচনে প্রার্থী ছিলো ৭ জন। জামানত হারিয়েছে ৫ জন। এর মধ্যে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাও বাহাদুর শাহ রয়েছেন । তিনি পেয়েছেন মাত্র ১৩১৭৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন প্রধানীয়া পেয়েছেন ২৬৮ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ প্রার্থী পেয়েছেন ২৫৬ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ১৫১৬ ভোট। ইসলামিক আন্দোলন প্রার্থী পেয়েছেন ৬৬৮১ ভোট।
যাদের ভোটের সংখ্যা এক হাজারের নীচে। জামানত হারানো প্রার্থীরা বলছেন অবশ্য ভিন্ন কথা।
জামানত হারানো ইসলামী আন্দোলেরন প্রার্থী জয়নাল আবেদীন দাবী করে বলেন, এদেশের মানুষ এখনো সচেতন হয়ে উঠে নাই। সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই তারা ভোট দিতে চায়। বহু ভোটার টাকার কাছে বিক্রি হয়।
জামানত হারানো ইসলামীক ফ্রন্টের প্রার্থী মাও এ এইচ এম আহসান উল্যা বলেন, তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী না হলে নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন। তার দলসহ অনেক দলেরই তৃণমূল দূবল।
সুশাসনের জন্যে নাগরিক, সুজন, চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে সচেতন হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে। পাশপাশি আরো বেশি জন সম্পক্তা বাড়াতে হবে। তা হলে নির্বাচনে ভরাযুবি ঠেকানো যাবে।
এবারের নির্বাচনে চাঁদপুরে মোট ভোটার ছিলো ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৯০ জন। ভোট প্রয়োগ করেন ১২ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৬ জন। সাধারণ ভোটারা চান নির্বাচনে যোগ্য, জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য বক্তিকেই যেনো প্রার্থী করা হয়।
![]()