জাহাজে ৭ খুনের ঘটনায় ২টি তদন্ত কমিটি : ময়নাতদন্ত শেষে  মরদেহ হস্তান্তর

 

 

আনোয়ারুল হক ॥

চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাটের কাছে সার বোঝাই এমভি আল বাকেরা জাহাজে নিহত সাতজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের স্বর্নখোলা রোডে লাশ ঘর প্রাঙ্গণে চাঁদপুর জেলার প্রশাসন , জেলা পুলিশ এবং নৌ পুলিশ তাদের পরিবারের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ প্রতি প্রত্যক পরিবারকে ২০হাজার টাকা এবং নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে ১০হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। তখন স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহত সাতজন হলেন, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার এগারনলি এলাকার আবেদ মোল্লার ছেলে সালাউদ্দিন (৪০), একই উপজেলার পাংখারচর উত্তর এলাকার মাহবুবুর রহমান মুন্সির ছেলে আমিনুর মুন্সি (৪১), ফরিদপুরের কোতোয়ালী উপজেলার জুয়াইর এলাকার মৃত আনিছুর রহমানের ছেলে মো. কিবরিয়া (৬৫), একই এলাকার মৃত আতাউর রহমানের ছেলে শেখ সবুজ (২৭), মাগুড়ার মোহাম্মদপুর উপজেলার চর বসন্তপুর এলাকার আনিছ মিয়ার ছেলে মো. মাজেদুর (১৮),একই উপজেলার পলাশ বাড়িয়া দাউদ হোসেনের ছেলে মোঃ সজিবুল ইসলাম (২৯) এবং মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল এলাকার দেলোয়ার হোসেন মুন্সির ছেলে রানা কাজী (৬২)। তারা সবাই জাহাজের স্টাফ।

সোমবার চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাটের পশ্চিমে মেঘনা নদীর পাড়ে হাইমচর উপজেলার মাঝিরচর এলাকায় থেমে থাকা একটি জাহাজ থেকে বিকেল ৩টার দিকে পাঁচজনের মরদেহ এবং তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে আরও ২ জন মারা যান। আহত জুয়েলকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তা না হলে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হতো না। আমরা এর বিচার চাই।

নৌ পুলিশের এসপি সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনা পর্যবেক্ষণের পরই জাহাজে যাই। সেখানে গিয়ে যে আলামত গুলো জাহাজ থেকে উদ্ধার করেছি তার পারিপার্শ্বিক অবস্থানগুলো আমরা দেখেছি। এটি ডাকাতির ঘটনা নয়। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। জাহাজের ভিতর প্রত্যেকটি রুমে তাদের আহত ও নিহত দেহগুলো দেখতে পাই। তাদেরকে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা মাথায় ও গলায় আঘাত করা হয়েছে। এর থেকে মনে হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড এবং পূর্ব পরিকল্পিত। এই ঘটনায় আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু ক্লু পেয়েছি। এগুলো তদন্তের স্বার্থে আপনাদের কাছে এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। এই ক্লুগুলো নিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। আপনাদের কাছে একটি ভালো সংবাদ উপস্থাপন করতে চাই। জাহাজে আটজন ছিলেন। তাদের মধ্যে সাতজন মারা গেছে। একজন আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন আছেন। তার অবস্থা মোটামুটি ভালো। সে সুস্থতার দিকে। আমরা আশা করি তার সাথে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কথা বলতে পারব। তিনি একমাত্র জীবিত ব্যক্তি। আমাদেরকে মূল তথ্যগুলো তিনি দিতে সক্ষম হবেন। নিহতদের মধ্যে কোন এক পরিবারের সদস্য বাদী হয়ে হাইমচর থানায় একটি মামলা করবেন।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় বলেন, এ ঘটনায় চাঁদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে আগামী ১০ কার্যদিবসে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন বলেন, আমাদের তদন্তকারী সংস্থাগুলো আলাদাভাবে তদন্ত করবে। এছাড়াও আমাদের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কোস্ট গার্ডের স্টেশন কমান্ডারকে দিয়ে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তারা আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই তদন্ত রিপোর্ট আমাদেরকে দেবেন। কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ? আমরা এই মুহূর্তে বলতে পারব না।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের লাশ দাফন কাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে প্রত্যেক পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। আমরা শ্রম কর্মসংস্থান কল্যাণ এর সাথে এবং শিপিং কর্পোরেশনের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাকে কথা দিয়েছেন,এই নিহত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াবেন । এই ঘটনায় আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। নদীতে আরও নিরাপত্তা বাড়ানো হবে।

Loading

শেয়ার করুন: