নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
চাঁদপর শহরতলীতে সন্ত্রাসীদের স্বামী স্ত্রীকে তুলে নিয়ে মারধর করে নগদ টাকা, স্বর্নের চেইন,মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।১২ মে ( সোমবার) দুপুরে চাঁদপুর পৌরসভা ১৩ নং ওয়ার্ডে জনু গাজী মাদ্রাসা সংলগ্ন রমজান খান বাড়িতে এঘটনা ঘটে।
অপহরণ হওয়া কন বচাঁদপুর শহরের উত্তর রঘুনাথপুর এলাকার ইছহাক খান মেয়ে আছমা আক্তার (৩২) এবং বর খুলনা জেলার রুপসা উপজেলার মাঃ হযরত আলী(২৪)।
স্থানীয়রা ও খান বাড়ির কয়েকজন ব্যক্তিরা জানান, লোটন খান মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে অনেক মাদকের মামলা রয়েছে। পাঁচ ছয় মাস আগে একটি মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে আসে। মোটা অংকের টাকা নিয়ে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়। সেম একই ব্যাক্তি এখন আবার এই মেয়েটি ও তার স্বামীকে নিয়ে আসে। মারধর করে এমন টাকা পয়সা নিয়ে নেয় এবং ছেলে থাকা পাসপোর্ট নিয়ে যায়। আর তিন দিন নিয়ে আছে আমরা বলতে পারি নাই। আজ আমরা শুনতে পেরে পুলিশ খবর দেই। পুলিশ গঠনস্থল এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে আসমার স্বামী হযরত আলীকে সোমবার রাত আটটায় শহরের মঠখোলা এলাকায় পাওয়া যায়। স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়।
কনে আছমা আক্তার বলেন ,এখানে আমি ১০ তারিখে বিকালে আসছি। রমজান খান বাড়িতে আমার নাম ডাকা বোন খুকি আক্তারের বাড়িতে আসি। গতকাল আমরা চাঁদপুর কোর্টের মাধ্যমে আমাদের বিয়ে হয়। আমার স্বামীর নাম মোঃ হজরত আলী তারপর এখানে নিয়ে আসা হয়। আমার স্বামীকে অনেক মারধর করে টাকা পয়সা নিয়ে যায়। আমি তাদেরকে চিনি না। আমার স্বামীকে কোথায় নিয়ে গেছে তা আমি বলতে পারি না।তারা আমাকে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করা হয়।আমার স্বামীকে পরে শুনতে পারি মোঃ লোটন খান ও মোঃ রানা পাটওয়ারী মারধর করেন। লোটনের স্ত্রী সালমা আক্তার ( পাখি) আমার কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন এবং মোবাইল ও সাইট ব্যাগ নিয়ে যায়। আমাকে বলে চেইন নিতে হলে টাকা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন,আমাদেরকে বিয়ে করার জন্য সহযোগিতা করেন লোটন খানের স্ত্রী সালমা আক্তার (পাখি) এবং স্থানীয় যুবক মো:সোহেল বেপারী। সালমা আক্তার (পাখি) থেকে জানতে চাইলে বলেন, চেইন আমার হেফাজতে রেখেছি তা আমি দিয়ে দিব। পরে পুলিশ এবং স্থানীয়দের সামনে স্বর্ণের চেইন এবং মোবাইল আছমা আক্তারের কাছে বুঝে দেওয়া হয়।
রাতে হাসপাতালে হযরত আলী দৈনিক মেঘনা বার্তাকে জানান, টেকনিক্যালের বনবিভাগ এলাকার রানা পাটওয়ারী এবং লোটন খান রাত ৪টার সময় আমার স্ত্রীর বোনের বাসা থেকে কথা আছে বলে নিয়ে যায়। তারা আমাকে পার্শ্ববর্তী একটি বাগানে ডেকে নিয়ে আমার পাসপোর্ট, নগদ টাকা এবং মোবাইল নিয়ে যায়। তাই নয়, তারা আমার কাছে আরো দুই লাখ টাকা চেয়েছে। আমি দিতে অস্বিকার করলে আমাকে বেদম প্রহার করে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর এস.আই সেলিম বলেন, আছমা আক্তার কে ঘরের ভিতরে অবরুদ্ধ রাখা হয়। আমরা তাকে ঘর থেকে উদ্ধার করি। তিনি অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।
![]()