মাসুদ রানা ও লুৎফুর রহমান :
জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দুই তিনটি দল ৫৪ বছর দেশটাকে লুটেপুটে খেয়েছে।এর মধ্যে একটি দল আছে এবার তারা ক্ষমতায় যেতে চায়। তারা ৫ আগস্টের পরে এই পর্যন্ত দেশবাসীর কাছে যে পরীক্ষা দিয়েছে এই পরীক্ষায় তারা ফেল করেছে। তাদের চরিত্র পাল্টায় নাই বরং কয়েক গুণ বেড়েছে। চাঁদাবাজি টেন্ডার বাজি, দখল বাজি, চুরি ডাকাতি এহেনো কোনো কাজ নাই যা তারা করে নাই।
তিনি ৩১ জানুয়ারি শনিবার বেলা সাড়ে ১২ টায় চাঁদপুর হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এর আগে তিনি চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনের বেলা ১১ টায় নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ওরা ভোটের আগে মায়ের কাপড় খুলেছে। আমাদের ভাইদেরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ক্ষমতা পেলে ওরা দেশের কাপড় খুলে ফেলবে।
সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যদি দেশটাকে বাঁচাতে চান, সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চান, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারি সবাই দাঁড়িপাল্লা মার্কায় একটি করে ভোট দিবেন। আমরা সংবিধানের ৪৮ টি বিষয়ে পরিবর্তন চেয়েছি। এগুলো পাস করতে হলে একটি হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। যদি দাঁড়িপাল্লায় এবং সংবিধান সংশোধনে হ্যাঁ ভোট দেন তবে সুন্দর বাংলাদেশ গড়া যাবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি দলের ভাবসাব দেখে মনে হয় তারা ক্ষমতায় চলে এসেছে। ওরা এখনো বুঝতে পারছে না ওদের সেই দিন আর নেই। ওদের উদ্দেশ্য সন্ত্রাস করে, দখলবাজি করে, টাকা দিয়ে ভোট কিনে, ক্ষমতা দখল করা আমরা তা কখনোই হতে দেব না। আপনারা ভোটের দিন ফজরের নামাজ পড়ে কেন্দ্রে যাবেন রাতের বেলা ভোট গুনে, বুঝে নিয়ে বাসায় ফিরবেন। যদি কেউ ভোট কাটতে আসে আপনারা তাদের প্রতিহত করবেন।
চাঁদপুরবাসীর উদ্দেশ্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে যাকাত ভিত্তিক, সুদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। জামায়াতের কোন লোক চাঁদাবাজি করবে না, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি করবে না। এবার পরিবর্তনের সময় এসেছে, জুলাই যুদ্ধে যারা ভূমিকা রেখেছিলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যারা কোন অন্যায় করেনি তাদেরকে ভোট দিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলুন।
জামায়াত সেক্রেটারি আরো বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ওরা ধ্বংস করে দিয়েছে। খুনি, ধর্ষণকারী, চাঁদাবাজ যদি আবারও ক্ষমতাসীন হয় তাহলে এদেশের মানুষ আর কখনো ন্যায় বিচার পাবে না। আগের চেয়ে বেশি অন্যায় অপরাধে লিপ্ত হবে। দেশজুড়ে একটা পরিবর্তন এসেছে। জনগণের জোয়ার দেখা যাচ্ছে। গা এলিয়ে দিয়ে এই জোয়ার থামানো যাবে না। প্রত্যেককে একজন ডাঃ শফিকুর রহমানের ভূমিকা থাকতে হবে। তবেই ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসতে পারবে।
সভায় শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই পরবর্তী ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটাররা মুখিয়ে আছে, গত ১৭ বছর মানুষ যে পরিমাণ কস্ট পেয়েছে, জেল খেটেছে, আঘাত পেয়েছে, বাড়িঘর ছাড়া হয়েছে তা আর হতে দেওয়া যাবে না। সবাই মিলে আমরা নতুন গণতন্ত্রের জন্য কাজ করতে চাই। আজ জনতা জেগেছে কাউকে আমরা আর কোন সুযোগ দিতে চাই না।
তিনি বলেন, একটি দল সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায় ধর্ষণে সেঞ্চুরির কাছাকাছি ইতিমধ্যে ওরা পৌঁছে গিয়েছে। তাদেরকেও উৎখাত করা হবে সুতরাং আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাই মিলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত করতে হবে।
একটি দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তোমাদের ধোঁকাবাজি জনগণ বুঝে গেছে এর জবাব ১২ ই ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে তোমরা পেয়ে যাবে। জামায়াতে ইসলামী নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে ১২ তারিখের পর ওদেরকে তা বুঝিয়ে দিতে হবে। ওই দলটি একাধিকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা প্রচুর জনগণ আর তাদেরকে সুযোগ দিবে না।
শহর জামায়াতের আমীর এডঃ শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে এবং মোঃ আফসার উদ্দিন মিয়াজীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির ও চাঁদপুর -৪ আসনে ১০ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, চাঁদপুর -৩ আসনের দশ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জেলা জামায়াত সেক্রেটারি মোঃ শাজাহান মিয়া, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস মাজহারুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা হোসাইন আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবুল আলম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হুসাইন আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, জুলাই কিশোর যোদ্ধা হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা সভাপতি লিয়াকত হোসাইন, জামাতে ইসলামী চাঁদপুর জেলার নায়েবে আমির এডঃ মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, সরকারি সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন, জুলাই যোদ্ধা মোঃ শাহ আলম গাজী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমিন, জামায়াতের জেলা প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন মিয়াজী, খানাফত মজলিশ জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, জামায়াত উপজেলা সেক্রেটারি জুবাইর হোসেন খান, শহর সেক্রেটারি বেলায়েত হোসেন, শহর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি সবুজ খান, সদর উপজেলা সহকারি সেক্রেটারি সুলতান মাহমুদ, ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি জাকারিয়া মহিউদ্দিন, জামাত নেতা শুক্কুর মস্তান, জুলাই শহীদ সাজ্জাদের বাবা জসিম রাজা এলডিপির চাঁদপুর জেলা সেক্রেটারি ফজলুল কাদের চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম, গণতান ছাত্রশিবির চাঁদপুর জেলা সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ছাত্র শক্তির আহবায়ক সাগর হোসেন, শহর ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি ফয়েজ নাজমুস সাকলাইন, জেলা শাখার অফিস সম্পাদক নাসির উদ্দিন মিয়াজী, সদর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সবুজ খান, চাঁদপুর জজ কোর্টের এপিপি এডঃ আব্দুল কাদের খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফারুক মোহাম্মদ তুহিন, এন সি পির জেলা আহ্বায়ক তামিম খান প্রমুখ।
![]()