মেঘনা বার্তা রিপোর্ট :
দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে চাঁদপুর সদর, পৌরসভা ও হাইমচর উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে একডোজ করে হামের টিকা দেয়ার বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের উত্তর শ্রীরামদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়, হঠাৎ করে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। তার মধ্যে চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলা রয়েছে। যার ফলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ চাঁদপুর সদর, পৌরসভা ও হাইমচর উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সীর ৪৮ কেন্দ্রে ৭২ হাজার ৮৭৪ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে অস্থায়ী ইপিআই টিকা কেন্দ্র ৩শ ৩০টি, হাইমচর উপজেলা অস্থায়ী ইপিআই টিকা কেন্দ্র ১শ২৮ টি ও পৌরসভার অস্থায়ী ইপিআই টিকা কেন্দ্র ৪০টি কেন্দ্রে পর্যায় ক্রমে ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলবে।
সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন বলেন, ইতোমধ্যে সদর, পৌরসভা ও হাইমচর উপজেলায় ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়েছে। অভিভাবকদের সচেতন করার জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। শিশুদের টিকা দেয়ার জন্য প্রত্যেক গ্রাম ও মহল্লার নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে জানানো হয়, ৭ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত চাঁদপুর জেলায় ইতোমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশু মৃত্যু বরণ করেছে। মৃত শিশুরা হলেন-চাঁদপুর সদরের শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের পাইকদী গ্রামের মনির হোসেন মুন্নার ছেলে ৯ মাস বয়সী আব্দুল্লাহ, বাগাদী ইউনিয়নের পশ্চিম বাগাদী ঢালী বাড়ির নাজমুল হাসানের ৮ মাস বয়সী মেয়ে তাইয়েবা ইসলাম নুর, শহরের মাদ্রাসা রোডের ইসহাকের ৯ মাস বয়সী মেয়ে রুকাইয়া। হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ১শ ৫০ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৩২ জনের হাম সনাক্ত হয়েছে। কয়েকজনের পরীক্ষার রিপোর্ট আসার অপেক্ষা রয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, হামের প্রকোপ মোকাবেলায় সরকার কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান টিকাদান কর্মসূচি সফল হলে ভবিষ্যতে শিশুদের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের সব মাঠকর্মীর ছুটি বাতিল করে তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে নির্ধারিত বয়সের সব শিশু টিকার আওতায় আসে।
![]()