সংবাদ দাতা ॥
চাঁদপুরে এলজিইডির দেড় কোটি টাকার সড়ক মেরামতের কাজ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মাত্র ১৫ দিন আগে করা কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে গাড়ির চাকার সাথে। সদর উপজেলা প্রকৌশলী রাহাত আমিন পাটোয়ারী বলছেন, অভিযোগের পর আমরা ওই ঠিকাদারকে ওই কাজ পুনরায় করার নির্দেশ দিয়েছি। আজ (রোববার) কুমিল্লা থেকে তত্ত্বাবধায়ক কৌশলী সেই কাজ দেখার জন্য আসছেন।
নানা গর্ত আর ইট সুরকি উঠে গিয়ে বেহাল হয়ে যাওয়া দুর্ভোগের সড়ক হিসেবে পরিচিত জেলা কারাগারের দক্ষিণ দিক থেকে শাহতলীবাজার পর্যন্ত সড়কটির নাম ফিডার রোড। অবমেষে সেই সড়কের কাজ করছে এলজিইডি। আশা ছিল, এবার চলাচলে ভোগান্তি কমবে, টেকসই হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার।
কিন্তু সেই আশা পূরণ হওয়ার আগেই দেখা দিয়েছে নানা সংশয় ও সঙকট। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পনের দিন না যেতেই ওই সড়কের বিভিন্ন স্থানে উঠে যাচ্ছে ঢালাই। কোথাও কোথাও হাতের সামান্য চাপে ঢালাইয়ের অংশ গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। সরে জমিন দেখা গেছে, রাস্তা কারপেটিংএ যে পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহারের কথা ছিল, ঠিকাদার তার চারভাগের একবার গো ব্যবহার করেননি। হলে ১৫ দিনের মাথায় পুনরায় সড়কের অথৈবচ অবস্থা।
চাঁদপুর সদর উপজেলা কৌশলী জানান, ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কের এমন অববস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছে এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন, এত টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পরও কেন সড়কের কার্পেটিং এত দ্রুত নষ্ট হচ্ছে?
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, জেলা কারাগার থেকে শাহতলী বাজার পর্যন্ত সড়কটির দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থা ছিল। সড়কের দুরবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সংস্কারকাজ করা হয়। তবে পুরো কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ঢালাই উঠে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আনেন স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা। সরেজমিনে সড়কের কয়েকটি স্থানে ঢালাই উঠে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অংশের ঢালাই এতটাই দুর্বল যে হাতের সামান্য চাপে তা গুঁড়ো হয়ে উঠে যাচ্ছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক ও মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। সম্প্রতি সংস্কারকাজ হওয়ায় তাঁরা স্বস্তির আশা করেছিলেন। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় সেই আশা পূরণ হয়নি।
সিএনজি চালক কাদের ও লিটন বলেন, অনেক দুর্ভোগের পর সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের মান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তাতে সড়কটি বেশিদিন টিকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেন এমন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের নির্মাণমান, কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব, ব্যবহৃত উপকরণ এবং কাজের সময় তদারকির বিষয়গুলো যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সদর উপজেলা প্রকৌশলী রায়হাত আমিন পাটওয়ারী বলেন, সড়কটি কার্পেটিং এর সাথে প্রয়োজনীয় বিটুমিন ব্যবহার না করা এই অবস্থা হয়েছে। সে কারণে আমরা রাস্তাটিতে পু:ন কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।
তিনি বলেন, এ রাস্তার কাজ এখনো চলমান। অর্থাৎ রাস্তায় মার্কিং করা, দুই পাশে মাটি দেয়াসহ ছোটখাট কিছু কাজ এখনো বাকি আছে। পুরো কাজ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার বিল পাবে না।