কচুয়া প্রতিনিধি
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বেরকোটা গ্রামের বাসিন্দা, নীরিহ ভেকু চালক মো. জাবের হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে একই গ্রামের আওয়ামী লীগ নেত্রী কাজল রেখা ও তার স্বামী আলাউদ্দিন লিটনের বিরুদ্ধে টাকা ধার দিয়ে সুদের নামে প্রতারণা, মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার চেয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন হয়রানির শিকার ভেকু চালক মো. জাবের হোসেন ও তার পরিবার।
এ ঘটনায় (২৫ অক্টোবর) রবিবার দুপুরে নিজ বাড়ীতে দেয়া লিখিত বক্তব্যে নিরীহ মো. জাবের হোসেন দাবি করেন, প্রায় ৪ বছর আগে পারিবারিক সমস্যার কারণে আর্থিক সংকটে পড়লে তার বাবা মো. আবুল হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা কাজল রেখার কাছ থেকে সুদে ১ লাখ টাকা ধার নেন।
ধারের টাকার বিপরীতে ওই সময় তার বাবা আবুল হোসেন ও মা সেলিনা আক্তার একটি ব্ল্যাংক গ্যারান্টি চেক (যার নং-১৫১৬৪৩৪৪৪৬৫০৯, সোনালি ব্যাংক, সাচার শাখা) ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর প্রদান করেন বলে তিনি দাবি করেন। জাবের হোসেনের দাবি, পরবর্তী সময়ে কাজল রেখা ওই চেকের বিপরীতে ১ লাখ টাকার পরিবর্তে সুকৌশলে ২১ লাখ টাকা দাবি করেন।
তার অভিযোগ, ৫ আগষ্টের সময়ে কাজল রেখা ও তার স্বামী আলাউদ্দিন লিটন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যাওয়ার পর তাদের পক্ষে ধারের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে চাঁদপুর জজ কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসরাত জাহান ইমার মাধ্যমে তার বাবার কাছে ২১ লাখ টাকা দাবি করে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি তাদের কাছে বিস্ময়কর করে তোলেন। জাবের হোসেনের দাবি মূল ধারের পরিমাণ ছিল ১ লাখ টাকা। তবে ওই টাকার পরিবর্তে ২১ লাখ টাকা দাবি করে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি কচুয়া, চাঁদপুরের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নং সি.আর মামলা নং ৭৪/২০২৫। তিনি অভিযোগ করেন, তার বাবার সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
তার দাবি, ধারের প্রকৃত পরিমাণ ১ লাখ টাকা হলেও অলিখিত চেক ও সাদা স্টাম্পে অতিরিক্ত ২১ লাখ টাকা দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি এসব অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন কাজল রেখা ও তার স্বামী আলাউদ্দিন লিটন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে আমাদের হয়রানি করছেন,আমরা ন্যায় বিচার ও সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। আবুল হোসেন ও তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার জানান, আমরা পড়ালেখা জানিনা। সুদের মাধ্যমে টাকা ধার দিয়ে কাজল রেখা বর্তমানে আমাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক আমরা ন্যায়-বিচার চাই।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, তৎকালীন সময়ে দলের প্রভাব খাটিয়ে কাজল রেখা ও তার স্বামী আলাউদ্দিন লিটন এলাকায় চড়া সুদের নামে সাধারণ লোকদের হয়রানি করতেন।
এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত আবুল হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ, নাজির হোসেন, বাবুল মিয়া, জহির মিয়া, মোস্তফা কামাল ও রুহুল আমিন সহ কচুয়া প্রেসক্লাবে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অসংখ্য সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে কাজল রেখার মুঠোফোনে ফোন দিয়ে বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।