জসিম উদ্দিন
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামকে বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ম্যানেজিং কমিটি।
জানা যায়, প্রধান শিক্ষক ২০১৫ সালে এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। ওই সময় থেকে তিনি বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষক-কর্মচারী, ছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, কোচিং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়।
প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ বিভিন্ন দুর্নীতি তদন্ত করার জন্য প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের যাবতীয় অভ্যন্তরীণ বেসরকারি হিসাব-নিকাশ বৈধ ভাউচারসহ অডিট কমিটির কাছে পেশ করার জন্য তাকে নোটিশ প্রদান করলে প্রধান শিক্ষক অডিট কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা না করে বিদ্যালয়ের মূল্যবান কাগজপত্র নিজ হেফাজতে রাখেন। এক পর্যায়ে তিনি আংশিক কাগজপত্র অডিট কমিটির কাছে প্রদান করেন। তদন্ত কমিটি কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আয়-ব্যয় ও ব্যাংকের স্থিতি হিসাব করে ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৮০৯ টাকা পাওনা হয়।
তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর ১৮/১০/২০২৬ ইং তারিখে সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিদ্যালয়ের আত্মসাৎ কৃত টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু স্কুলের আত্মসাৎ কৃত টাকা জমা না দেওয়ায় কারণ উল্লেখ করে আজ ২৬/১০/২০২৬ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. সোহেল বেপারীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ ও হিসাব সহকারী সাইফুল ইসলাম বলেন , আমরা কোন চিঠি গ্রহণ করিনি। একই সাথে আমি বিদ্যালয়ের একটি টাকাও আত্মসাৎ করেননি।