জননেত্রী শেখ হাসিনা চাঁদপুরবাসীকে অনেক দিয়েছেন আসুন আমরা তাঁকে আবার নৌকার বিজয় উপহার দেই :আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী চাঁদপুর পৌরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে চাঁদপুর পৌরবাসীসহ জেলাবাসীকে একের পর এক বৃহৎ উন্নয়ন উপহার দিয়েছেন এবং এখনো দিচ্ছেন। বিশেষ করে চাঁদপুর পৌর এলাকায় জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় স্মরণকালের সর্বাধিক উন্নয়ন হয়েছে। আরো বহু যুগান্তকারী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষমান। আসুন আমরা তাঁকে আবার নৌকার বিজয় উপহার দেই। আগামী ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী এডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েলকে নৌকা মাকায় ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী রোববার সংবাদপত্রে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় এবং চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কম থাকায় ’৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদপুর জেলা উন্নয়নবঞ্চিত ছিল। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের ৩টি আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জয়লাভ করেন এবং আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনজন সংসদ সদস্যকেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী (পরে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী) মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া) বীর বিক্রম এমপির যুগপৎ নেতৃত্বে চাঁদপুর জেলায় উন্নয়নের শুভযাত্রার সূচনা হয়। যদিও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য না থাকায় জেলা সদর তখনো পিছিয়ে ছিল।

কিন্তু ২০০১ সালের কারচুপির নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলে থমকে যায় চাঁদপুরের উন্নয়ন কর্মকান্ড। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবার জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদানকারী ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে দীর্ঘদিন পর চাঁদপুর জেলা সদরের আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. দীপু মনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ফলশ্রুতিতে চাঁদপুর সদর-হাইমচরের মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ (পররাষ্ট্র) মন্ত্রণালয় উপহার দেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। একই সরকারে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া) বীর বিক্রম এমপি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চাঁদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি। অতিগুরুত্বপূর্ণ উল্লেখিত সফল মন্ত্রীগণের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বদান্যতায় গত এক যুগে চাঁদপুর শহরসহ সারা জেলায় যত উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে এর পূর্বের শতবছরেও তা হয়নি। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও ডা. দীপু মনির প্রচেষ্টায় চাঁদপুরবাসীর শত বছরের কান্না চাঁদপুর-হাইমচরের নদী ভাঙন প্রতিরোধ, জেলাবাসীর প্রত্যাশিত মেডিক্যাল কলেজ, মেরিন একাডেমিসহ অসংখ্য উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলাবাসীর আরো বহু প্রত্যাশা এখন স্বপ্ন নয়, বাস্তব।

আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী তার বিবৃতিতে আরো বলেন, চাঁদপুরবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অভূতপূর্ব উন্নয়ন-অর্জন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে আসছেন এবং যখন’ই সুযোগ পাচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করছেন। উন্নয়ন, সুশাসন, সুখ-সমৃদ্ধির বিনিময়ে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরবাসী কৃতজ্ঞতাস্বরূপ চাঁদপুরের সকল আসন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিয়েছেন। কৃতজ্ঞ চাঁদপুরবাসী বিগত চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন, বিভিন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচনগুলোতেও আওয়ামী লীগ মনোনীত/সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করে উন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অব্যাহত রেখেছেন। এবার আমাদের সামনে সমাগত চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন।

চাঁদপুর জেলা সদরের পৌরসভা এবং দেশের প্রাচীণতম ও প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার গুরুত্ব ও মর্যাদা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদের পরম আন্তরিকতা, কঠোর পরিশ্রম, দেশপ্রেম, একাগ্রতা ও সততায় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও উন্নত-সমৃদ্ধ পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়েছে এই পৌরসভা। পানি ব্যবস্থাপনাসহ নাগরিক সেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সারাদেশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে চাঁদপুর পৌরসভা। চাঁদপুর পৌরসভাকে দেশের শীর্ষস্থানীয় পৌরসভায় উন্নীতকরণ ও সিটি কর্পোরেশনে রূপদানে তাঁর সুদূরপ্রসারী অনেক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ বাস্তবায়নের অপেক্ষমান।

এমতাবস্থায় ঐতিহ্যবাহী, মর্যাদাবান, সমৃদ্ধ ও বিশাল সম্ভাবনাময় চাঁদপুর পৌরসভাকে এগিয়ে নিতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের যোগ্য নেতৃত্ব অনিবার্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দূরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় তৃণমূল থেকে উঠে আসা দলের দুঃসময়ের ত্যাগী, বিশ্বস্ত, পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় নেতা এডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েলকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক প্রদান করেছেন। আমার বিশ্বাস, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টির মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুঃসময়ের সভাপতি এডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েলকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত করেছেন।

এমতাবস্থায় চাঁদপুর পৌরসভার উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে আগামী ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রদানের জন্য আমি চাঁদপুর পৌরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, যুব মহিলা যুবলীগসহ দলের প্রতিটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার বিজয়ে কাজ করার আহ্বান জানাই। মনে রাখতে হবে- নৌকা মানে উন্নয়ন, নৌকা মানে শান্তি, নৌকা মানে সমৃদ্ধি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

শেয়ার করুন: