নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেছেন, আমি এ জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকে জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙ্গা করার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এ জেলার ইতিহাসের আলোকে আমি যতোটুকু জেনেছি, শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ জেলার কৃতী সন্তানরা ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রেখেছেন। আমি চাকুরির সুবাদে এ জেলায় হয়তো বেশিদিন থাকতে পারবো না। কিন্তু আমি এ জেলার সন্তান, বর্তমানে যাঁরা নানাভাবে সকল দিকে নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ রয়েছেন বা অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত, আপনাদের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, এগিয়ে আসুন, চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে পুনরায় চাঙ্গা করুন। তিনি আরো বলেন, চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনের অতীত যে ঐতিহ্য রয়েছে তা পুনরুদ্ধারে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, এক সময়ে সকল স্থানে নানা ধরনের ক্রীড়া অনুষ্ঠানগুলো চলমান ছিলো। ফলে ঐ সময়ের প্রজন্ম খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো, কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলো না। বর্তমানে নানা অজুহাতে খেলাধুলাগুলো বন্ধ থাকায় নতুন প্রজন্মের কিশোররা নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছে। তাই নতুন প্রজন্মকে বা কিশোরদের নিয়ে আগামীর বাসযোগ্য দেশ গড়তে তাদেরকে নানা ধরনের খেলাধুলার মাঝে ব্যস্ত রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসক চাঁদপুরে তারুণ্যের উৎসব উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সার্বিক সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক কাপ সাঁতার প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ) সকালে চাঁদপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কস্থ রেলওয়ে লেকে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সার্বিক সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক কাপ সাঁতার প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকুর চাকমা ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অ্যাড. শাহজাহান মিয়া।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া ফারজানা হকের উপস্থাপনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের দুবারের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি এই চাঁদপুরের সন্তান হিসেবে আমার জানা রয়েছে সাঁতারে চাঁদপুরের অতীত ইতিহাস। তাই সুইমিং ফেডারেশনের দায়িত্ব নেওয়ার পূর্ব থেকেই অতীত ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারে আমি সকলের সহযোগিতা চেয়ে আসছি। আমি এই চাঁদপুরে নতুন প্রজন্মের মধ্য থেকে সাঁতারু আ. মালেক, অরুণ নন্দীদের খুঁজে বের করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর থেকে জাতীয় পর্যায়ের সাঁতারু তৈরি হোক–এজন্যে আমার পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকে জেলা প্রশাসনের এই আয়োজন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দিনব্যাপী বিভিন্ন বয়সের সাঁতারুদের সাঁতার প্রতিযোগিতা হয়। জেলার সকল উপজেলা থেকে প্রায় ৩ শতাধিক সাঁতারু এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে।
![]()