নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
চাঁদপুর জেলার পরিবেশগত মৌলিক সমস্যাসমূহ এবং এ সকল সমস্যা হতে উত্তরণে করণীয় শীর্ষক অংশীজন সভা এবং মাটি, পানি বায়ু ও শব্দদূষণ, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র সংরক্ষনের গুরুত্ব শীর্ষক জনসচেতনতামূলক সভা জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
এসময় তিনি বলেন, আমার জেলায় কি কি পরিবেশগত সমস্যা রয়েছে তা নির্ধারন করা। এ আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তাগিদ দেওয়া। আমরা জেলার পরিবেশগত সমস্যা কোথায় কোথায় আছে তা নিয়ে সুনিদিষ্ট কথা বলছি না। পরিবেশগত বিপর্যয়ের মূল কারন হচ্ছে প্রকল্প নিচ্ছে তা পরিবেশের চিন্তা না করেই প্রকল্পের কাজ করছে। ধরেন একটি রান্তা করবে তাতে কি কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে হচেছ কিনা, জলাবদ্ধতার সৃর্ষ্টি হবে কিনা। বড় বড় প্রকল্পের ক্ষেতে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া হয় না।
তিনি আরও বলেন, এ জেলার পরিবেশগত বড় সমস্য হচ্ছে খালগুলো ভড়াট হয়ে যাচ্ছে। সাথে সাথে নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। গত ৩০ বছর থেকে আমার অফিস থেকে বালুমজহল ইজারা দেওয়া হয়নি। আদালত থেকে টকার বিনিময়ে বালুমজলের লিজ নিয়ে আচ্ছে। আমি ইজারা দিলে সীমানার মধ্যে থেকে করতে হতো। কিন্তু আদালত থেকে বালুমহলে ইজারায় বাঁধা দিলে আদালত অবমাননার মামলা দিয়ে দেওয়া হয়।
এ জেলার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে নদী ভাঙ্গন রোধ করতে না পারা প্রধান একটি কারন। নদী ভঙ্গেণের কারনে বাস্তুচূত মানুষ শহরে এসে বসবাস করে ব্যাপকভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে। জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশ দূষনের প্রধান কারনগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ জেলায় কৃষি জমিতে বছরের তিনটি ফসল হয় না, শুধু এ বছরী সফল করে কৃষকরা। কারন জমির মালিক টপসয়েল বিক্রি করে দিচ্ছে। শব্দদূষনের জন্য সভা সমাবেশ বিশেষভাবে দায়ী। এ জেলায় ১৬৭টি ডায়াগনিষ্টিক ক্লিনিক ও হাসাপতাল রয়েছে। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে করা হচ্ছে না। আমাদের নদী বাঁচাতে হবে, নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে। বিভিন্নভাবে নদী দখল ও নদী দূষণ হচ্ছে।
সমাজের দূর্বিতায়নের কারনে সরকারি দপ্তরগুলো কাজ করতে পারছে না। তাই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কিছু কিছু মব দৃশ্য মান কিছু বম রয়েছে অদৃশ্য মব। অদৃশ্যমব ও দূর্বিতায়নের কারনে অনেক কাজের সমাধান হচ্ছে না।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডাক্তার নৃুর আলম দীন মোহাম্মদ, চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মোঃ গোলাম জাকারিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল কবির, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা, সধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, ক্লিন চাঁদপুরের সভাপতি এডভোকেট মোঃ নুরুল আমিন খান আকাশ।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শর্মিতা আহমেদ লিয়ার পরিচালনায় উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন জেলা চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, পুরানবাজার ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শোয়েব, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্য়ন্ন ফাউন্ডেশন জেলা শাখার সভাপতি মোসাদ্দেক আল আকিব, বাংলাদেশ হোটেল রেঁস্তোরা মালিক সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আখন্দ, হাসপাতাল ক্লিনিক ওনার্স এসাসিয়েশনের প্রতিনিধি মাহবুব আলম, কচুয়া ব্রিক ফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি রবিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আনোয়ার হোসেন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধশাহ পরান।
বক্তারা বলেন, পরিবেশ বাঁচাতে হলে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। সুন্দর শহরকে সুন্দর রাখতে সকলকে সকল নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। দিনে। ময়লা যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্খানে ফেলার অভ্যাস করতে হবে। পরিবেশ দূষনের করনে জলজ প্রাণি আজ বিপন্নের মধ্যে পরেছে। বালু উত্তোলনের কারনে নদীতে ইলিশের প্রজননে ব্যাপক বাঁধার সৃর্ষ্টি। এতে করে দিন দিন ইলিশের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। শহরের খালগুলো প্রায় ভরাট হয়ে গেছে তাই অতিবৃর্ষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃর্ষ্টি করছে।
![]()