সবাই মিলে  সুন্দর দেশ গড়তে চাই : অর্থ  উপদেষ্টা

আরেফিন সুমন।।
আমরা আমাদের প্রজন্মের জন্য একটি ভালো দেশ চাই। আমাদের আগামী সময়ের জন্য একটি শক্তিশালী, সুখী, সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র রেখে যেতে চাই।  সবাই মিলে  সুন্দর দেশ গড়তে চাই বলেছেন অর্থ  উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
 (১৯ জানুয়ারি ) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান। সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: নাজমুল ইসলাম সরকার।
সভায় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ভোটের কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে। আর মাত্র ২৩ দিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬। ভোট যুদ্ধের পাশাপাশি একই দিনে হতে যাচ্ছে গণভোট। ২৪ এর জুলাইয়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের দেশের সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এই হ্যাঁ বা না ভোটের নির্বাচন।
তাই গণভোটের প্রচার  ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে চাঁদপুর আয়োজিত হল মতবিনিময় সভা। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারের অর্থ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ড.সালেহউদ্দিন আহমেদ।
 ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, আমাদের বাংলাদেশে অনেক সম্ভাবনা আছে। মাঝখানে সেসব সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছিল। এখন শংকা অনেকটাই কেটে গিয়েছে। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম অনেক সমর্থন ছিলো যেটা এখনো আছে। আমাদের দেশে যেমন অনেক সম্পদ আছে তেমনি আছে দুর্নীতি ও। এত কিছুর পরেও আমাদের দেশ অনেক উন্নত হয়েছে। এখন যেটা দরকার তা হলো সুশাসন। তাই আমি বলবো এখানে সরকারি বেসরকারি পদ মর্যাদার যারাই আছেন, সমাজের সর্বস্তরের লোকজন, এমনকি সাংবাদিকতার সাথে যারা যুক্ত আমরা সবাই মিলে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, এজন্য আমরা এবার গণভোটের আয়োজন করেছি। কিছু সংস্কার আছে আমরা করেছি। কিছু আমরা করতে পারি নাই। আমাদের দেশের যারা শক্তি সেই জণগনকে বিভিন্ন ভাবে রাজনৈতিক নেতারা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের অন্য দিকে ধাবিত করে আসছে। এজন্য এদেশের অনেক লোক এখনো বঞ্চিত। অনেকে বেকার হয়ে আছে। সংস্কারের লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের উচ্চকক্ষে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাস্তবায়ন করা, এসেম্বলীতে অন্যায় অবিচার বা বিচারহীনতা নিশ্চিত করা, সচ্ছল জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কারণ মুষ্টিমেয় কয়েকজন মালিক হয়ে যান আর আপনাদের জন্য কিছুই থাকে না। এজন্য ই সংস্কার প্রয়োজন। আপনি হ্যাঁ চাইলে হ্যাঁ বলবেন না চাইলে না বলবেন।কারন আমি ভাবছি আপনারা কেউ না চাননা। এগুলোই তো আপনাদের জন্য। জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে গণভোটের আয়োজন করেছিলেন তখন কিন্তু ৯৭℅ মানুষ হ্যাঁ বলেছিলো। অনেকদিন পর সুযোগ এসেছে আপনাদের, কন্ঠকে সোচ্চার করার।
তিনি বলেন, দু একজন রাজনীতিবিদ আমাকে বলেছেন আমরা যদি না মানি তাহলে কি  হবে। তাদেরকেই এখন বিভিন্ন টকশোতে দেখা যায় কথা বলতে। আমি বলেছি আপনারা যদি না করেন তাহলে আবার জনগণই জুলাই বিপ্লবের মতো হয়তো কিছু করে বসবে। সেই বার্তাটাই দেয়ার সময় এসেছে। বছরের পর আপনি শাসন করবেন পরে আবার অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। আমাকে মাঝে মাঝে অনেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন আপনারা কি ব্যর্থ হিসেবেই বিদায় নিবেন। আমি তাদের বলি আমি একেবারে ব্যর্থ নই, কিছুটা সফলতা তো পেয়েছি। যতটুকু করেছি মানুষের ভালোর জন্য ই করেছি। বাইরের দেশে আমাদের নিয়ে কিন্তু অনেকে ভালো আলাপ করেন। তারা বলেন তোমাদের যে সমস্যাগুলো ছিল এটা কাটিয়ে উঠে যা করেছো যথেষ্ট। কিন্তু সামনে চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের কাজগুলো সামনে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ মাঝখানের ঘটনা ভুলে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। আমরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছি। আমরা চাই ১২ ফেব্রুয়ারি যাকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী তাকেই ভোট দিবেন পাশাপাশি হ্যাঁ ভোট দিয়ে আপনি আপনার মতামত, চাহিদা প্রকাশ করবেন। একটা কথা মনে রাখবেন গ্লাসের সব অংশ খালি থাকে না। কিছু অংশ পানিভর্তি থাকে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো: রবিউল হাসান।
অনুষ্ঠানে সরকারি, বেসরকারি, কর্মকর্তাগণ, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা, স্কুল ও কলেজের ছাত্রগণ উপস্থিত ছিলেন।

Loading

শেয়ার করুন: