আজ শিল্পকলায় মঞ্চস্থ হচ্ছে বর্ণচোরার নাটক ‘লালননামা’

 

স্টাফ রিপোর্টার :

আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় শিল্পকলা একাডেমি চাঁদপুরে মঞ্চস্থ হবে বর্ণচোরা নাট্যাগোষ্ঠীর সাড়াজাগানো বাউল সম্রাট লালন ফকিরের কাহিনী ও দর্শন নিয়ে নাটক ” লালননামা”।

নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রয়াত নাট্যকার জিয়াউল আহসান টিটো। তাঁর স্মরণে তাঁরই সংগঠন বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর ৪৯ তম প্রযোজনা ‘লালননামা’ নাটকটি আজ সোমবার (২০ জুলাই ) মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান উপস্থিত থেকে নাটকটি উপভোগ করবেন বলে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

শিল্প, মঞ্চ এবং নাটকের কখনো মৃত্যু হয় না। ঠিক যেমন মৃত্যু হয় না সেই স্রষ্টা বা কারিগরের। যিনি নিজের ভিতর আস্ত জীবনকে ধারণ করে মঞ্চে আলো জ্বালেন। আজ এই মঞ্চে আলো জ্বলছে, মঞ্চ প্রস্তুত কিন্তু আমাদের মাঝে নেই, সেই আলোর মূল কারিগর। আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি, একধারে গভীর শোক, শ্রদ্ধা এবং পরম ভালোবাসার এক মিশ্র অনুভূতি নিয়ে। বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, নাট্য ব্যক্তিত্ব,আমাদের বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর প্রাণপুরুষ, চাঁদপুরের গর্ব নাট্যকার, নির্দেশক ও নাট্যাভিনেতা জিয়াউল আহসান টিটো আজ আমাদের মাঝে আর বেঁচে নেই। এবছরই ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার তিনি এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরবিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তিনি রেখে গেছেন, তাঁর সৃষ্টি, তাঁর দর্শন, থিয়েটারের প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ।

বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী এবং জিয়াউল আহসান টিটো পরস্পর পরস্পরকে একই সূত্রে গেঁথে ১৯৮২ সাল থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অতন্ত দক্ষ তার সাথে মঞ্চ সৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন। এই দীর্ঘ ৪৪ বছরে তাঁর প্রিয় সংগঠন বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীকে অনেক অনেক শ্রম, ঘাম,মেধা,অর্থ দিয়ে সংগঠনটিকে এগিয়ে নিতে চেষ্টার ত্রুটি করেননি তিনি। আর এই চেষ্টা ফসল হিসেবে সংগঠনটি বাংলাদেশে পেয়েছে অনেক খ্যাতি ও অর্জন।

তিনি বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী,চাঁদপুর ও থিয়েটার ঢাকার নিবেদিত মঞ্চ সৈনিক হিসেবে নি:স্বার্থ ভাবে কাজ করে গেছেন। নাট্যাঙ্গণের এই ৪৪ বছরে তিনি নিজ সংগঠন বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর জন্য সাজাহান নাটকটি নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন এবং বাউল সম্রাট লালন ফকিরের কাহিনী ও দর্শন নিয়ে রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন লালননামা। এই নাটক দুটি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বাংলাদেশ টেলিফোনে মঞ্চায়ন কারে ব্যাপক সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করেছে। বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী অনেক নাটকের আলোক প্রক্ষেপণ ও নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্যের দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সাথে পালন করেছেন।

তাঁর পিতা বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ আবুল খায়ের গোলদার। চার ভাই, এক বোন। ভাইদের মধ্যে তিনি ছিলেন ৩য়। পড়াশুনায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবি। কলকাত ব্যাঙ্গালোর থেকে বিবিএ সর্বচ্চো ডিগ্রি নিয়ে বিভিন্ন সময় চাকরি ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তখনো থেমে ছিলোনা তাঁর নাট্যাঙ্গনে বিচরন। তিনি ছিলেন একধারে নাট্যকার, নাট্য নির্দেশক, অভিনেতা, আলোক প্রক্ষেপণ ও নির্দেশক, লেখক ও গবেষক।

জিয়াউল আহসান টিটো শুধু নাটক লিখতেন না, নাটক পড়তে পড়তে মানুষের অন্তরের সত্যকে খুঁজতেন আর এই সত্যেরই এক কালজয়ী রূপান্তর তার রচিত বিখ্যাত নাটক লালননামা। যা ছিল উপমহাদেশে প্রথম বাউল সম্রাট লালন ফকিরের কাহিনী ও দর্শন নিয়ে লেখা মঞ্চ নাটক। সাঁইজির দর্শনকে যিনি অত্যন্ত নিপুন ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আজ তার সেই অমর সৃষ্টিকে পরম শ্রদ্ধায় আবারো মঞ্চে ফিরিয়ে এনেছে বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠ। আজকের এই সন্ধ্যা উৎসর্গ করা হলো বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর চিরকালের পথপ্রদর্শক জিয়াউল আহসান টিটোর স্মৃতির উদ্দেশ্যে।
জিয়াউল আহসান টিটো বেঁচে থাকবেন লালননামা নাটকের প্রতিটি সংলাপে, কলাকুশলীদের প্রতিটি পদক্ষেপে। থিয়েটারকে ভালোবেসে যাওয়া প্রতিটি মানুষের হৃদয় স্পন্দনে। বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী ও জিয়াউল আহসান টিটো একে অপরের সাথে জড়িয়ে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীও তাঁকে আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তাঁর সৃষ্টিশীল আত্মা যেখানেই থাকুক – শান্তিতে থাকুক।

লালননামা নাটকে যার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, করছেন, তাঁর হলেন, কামরুজ্জামান শিশির, মাকসুদুল ইসলাম রতন, শুভ্র রক্ষিত,সিয়াম খান,, নাজমুল হোসেন বাপ্পি, মরিয়ম আক্তার মাহি, মুক্তা ইসলাম মিম, আসমা আক্তার পাখি, চৈতী শীল, দেবব্রত সরকার বিজয়, রাজা মজুমদার, দিলীপ দাস, নূরে আলম নয়ন, বলাই চন্দ্র সরকার, আসিফুল আলম, বিশ্বজিৎ দেবনাথ প্রিতম ও শরীফ চৌধুরী । সংগীত ও বাদনে রয়েছেন, বিচিত্রা সাহা, শান্তি রক্ষিত, ঐশি দাস, ও শুভ। আলোক পরিকল্পনায় শুকদেব রায়।

নাটকটি দেখার জন্য সকলকে আন্তরিক ভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি শুকদেব রায় ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌধুরী।

Loading

শেয়ার করুন: