খাল দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

 

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি :

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নে সরকারি খাল দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। খাল দখল করে ভবনের অংশ নির্মাণ করায় পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে করে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৮০৮৭ ও ৮০৮৮ নম্বর দাগে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের প্রায় ১১শতাংশ সরকারি সম্পত্তি রয়েছে। এর পাশেই ৮৪২৭ ও ৮৪২৮ নম্বর দাগে গণি খন্দকার, সিরাজ খন্দকার ও টেলু খন্দকারের ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি রয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তির সীমানা অতিক্রম করে ১ নম্বর খতিয়ানের অধীনস্থ সরকারি সম্পত্তি বা খাস জমি অংশ দখল নিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোয়াল ভাওর জারের বালুরমাঠ সংলগ্ন এলাকায় একটি সরকারি খালের উপর ভবনের দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের নির্মাণকাজের কারণে খালের স্বাভাবিক প্রশস্ততা কমে গেছে। খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় বর্ষার মৌসুমে পানি নিষ্কাশন প্রায় বন্ধের পথে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, গোয়াল ভাওর বাজারের উত্তর দিক থেকে পানি চলাচলে একমাত্র খালের অংশ এই স্থানটি। খালটি আগে আরও প্রশস্ত ছিল। ধীরে ধীরে খালটি দখলে চলে যাচ্ছে। খালের দু’পাস দিয়ে মাটি ভরাট ও ভবন নির্মাণ করে দখল নিয়েছে আশপাশের বাসিন্দারা। এতে পানি নিষ্কাশনে ববাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষাকাল আসলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এসময় তারা আরও জানান, ৫ই আগস্টের আগে থেকেই টেলু খন্দকারগং খালের অংশ দখল নিয়েছে। বর্তমানে তারা ভবন নির্মাণ করে খালের অধিকাংশ জায়গা দখল করেছে। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বাধা দিলেও টেলু খন্দকারগং কাউকে কর্ণপাত করে নাই। প্রভাব খাটিয়ে এবং গোপন সমজোতার মাধ্যমে খাল দখল করে ভবন নির্মাণকাজ চালিয়ে যায় তারা। ভূমি অফিসকে জানানোর পর এবিষয়ে তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি তারা। আমরা ডিসি মহোদয়ের দৃষ্টি কামনা করি।

সরকারি খাস সম্পত্তি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টেলু খন্দকার । তিনি জানান, আমরা আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তির ওপর ভবন নির্মাণ করেছি। ভূমি অফিসের লোকজন এসে এবং সরকারি সার্ভেয়া এর মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়ে গেছে। যদি সরকারি সম্পত্তি হয়ে থাকে, তাহলে আমি তা ছেড়ে দেব।

এ বিষয়ে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, তাদের ভবনের দেয়ালের পেছনের অংশ সরকারি খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে, এবিষয়টা সত্য। আমি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ভূমি অফিসের সাথে গোপন সমজোতার মাধ্যমে খাল দখল করে ভবন নির্মাণ প্রশ্নে তিনি জানান, এবিষয আমি কিছু জানি না। আমি আসার পর এমন কিছু হয়নি।

শেয়ার করুন: