নিজস্ব প্রতিনিধি :
চাঁদপুরে সিভিল সার্জন বদলির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। বদলির দুই ঘণ্টার ব্যবধানে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তাকে ক্ষমা ও সতর্ক করে দেওয়া হয়। চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে জলাতঙ্কের টিকা (র্যাবিস ভ্যাকসিন) ও নরমাল স্যালাইন না পাওয়ায় জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর আলম দীনকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার পাশাপাশি সেবার মান ও ওষুধের মজুত সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আসে। বিশেষ করে প্রায় এক মাস ধরে র্যাবিস ভ্যাকসিন ও নরমাল স্যালাইন (এনএস) না থাকার বিষয়টি জানানো হয় তাকে।
এরপর হাসপাতাল থেকেই মন্ত্রণালয়ে ফোন করে চাঁদপুরের সিভিল সার্জনকে উত্তরবঙ্গের কোনো জেলায় বদলির নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফোনালাপে তিনি বলেন, ‘চাঁদপুরের সিভিল সার্জনকে একেবারে উত্তরবঙ্গের দিকে পাঠিয়ে দেন। আর ফিট লিস্টে থাকা অন্য একজনকে সিভিল সার্জন করে চাঁদপুরে দিন ।’
পরে দুপুর দেড়টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে চাঁদপুর তিন আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হিকমা, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকে সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে ভ্যাকসিনের সংকট নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল বলে মন্ত্রীকে জানানো হলে তিনি আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। একই সঙ্গে সিভিল সার্জনকে ক্ষমা করে বদলির আদেশ প্রত্যাহার করে নেন । এরপর তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান।
চাঁদপুর ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মতলব দক্ষিণ এবং হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুটিকে ১শত শয্যায় উন্নীত করা হবে। এদুটি হাসপাতালে দুটি আধুনিক ভবন করার আশ্বাস দেন।
![]()