আরেফিন সুমন ॥
রোববার (১৮ মে) সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
সভায় জেলার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা এবং বিভাগীয় সমন্বয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জবাবদিহিতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপরে গুরুত্বারোপ করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, ভোট কেন্দ্রগুলো দ্রুত মেরামত সংস্কার করে রাখার নির্দেশনা আছে। যেকোন সময় নির্বাচনের তপসিল হলে যেন কেন্দ্র সংস্কারের বিষয়ে কোন কথা না হয়। তাই বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলো সংস্কারের প্রয়োজন। সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে মেরামতের উদ্যোগ নিতে হবে । যেন যেকোনো প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী থাকে।
তিনি বলেন, চাঁদপুর একটি সম্ভাবনাময় জেলা। নদী, কৃষি, মৎস্য, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে আমাদের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সকল দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। নাগরিকদের কাছে সেবা সহজীকরণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হচ্ছে। নদীবিধ্বস্ত এলাকাগুলোর তালিকা তৈরি করে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মৌলিক অধিকার। সরকারি হাসপাতালে রোগীরা যেন ঠিকভাবে সেবা পান তা নিশ্চিত করতে হবে। ডাক্তার, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ততা এবং সেবার মান তদারকি করতে হবে আরও কঠোরভাবে।
তিনি আরও বলেন, জেলায় ১৫১টি কোরবানির হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অপ্রয়োজনীয় বিড়ম্বনা ও যানজট এড়াতে এবার কিছু হাট কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যত্রতত্র, বিশেষ করে রাস্তার পাশে কিংবা ঈদের আগের রাতে অবৈধভাবে হাট বসানো চলবে না। এতে শহরের স্বাভাবিক যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ে। প্রতিটি হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে। হাট ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব হবে এই টিমগুলোকে সহযোগিতা করা, যেন অসুস্থ পশু বিক্রি ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়ানো যায়।
এছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: এরশাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মো: গোলাম জাকারিয়া, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ.কে.এম. মাহবুবুর রহমান, চাঁদপুর সরকারি মহিলা।কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: ইকবালুর রহমান, গনপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আলিউল হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আহসান কবির, চাঁদপুর পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জহুরুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা মোহাম্মদ ফয়সাল, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ পরিচালক এ.কে.এম. আমিনুল ইসলাম, মেঘনা ধনাগোদা পওর বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী মো: ফখরুল আমিন সিদ্দিকী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী এম. শাহরিয়ার আজাদসহ বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগন ও প্রতিনিধিবৃন্দ।
![]()