ফরিদগঞ্জে প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনের প্রশিক্ষণ শুরু

কেএম নজরুল ইসলাম :

বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ফরিদগঞ্জে প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী পেশাভিত্তিক সফটস্কিলস প্রশিক্ষণ (ব্যবসায় উন্নয়ন ও পরিচালন) শুরু হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলবে ১০ দিন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “সমাজের প্রতিটি পেশারই নিজস্ব গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে। কুমার, কামার, নাপিত, মুচি কিংবা হাতের তৈরি বিভিন্ন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন আমাদের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পেশাকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।”

তিনি বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এসব পেশাজীবী তাদের দক্ষতা, শ্রম ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সময়ের সঙ্গে তাদের ঐতিহ্যবাহী পেশায় আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন নকশা, মানসম্মত উৎপাদন ও আধুনিক বিপণন পদ্ধতি যুক্ত করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হবে, অন্যদিকে তাদের আয় ও জীবনমানও উন্নত হবে।”

প্রথম দিনের প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন বাশির।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, “প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্রত্যেককে নিজের পেশাকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার চেষ্টা করতে হবে। নিজের পেশার প্রতি সম্মান ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে গেলে প্রান্তিক পেশাজীবীরাও উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন। তাদের উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অনলাইন ও বৃহত্তর বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।”

ক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সদস্য কেএম নজরুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রান্তিক আদি পেশাজীবীদের টেকসই উন্নয়নে তাদের উৎপাদিত পণ্যের উৎকর্ষ সাধনে সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার, আধুনিকায়ন ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা। এর মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে গড়ে তোলা।

শেয়ার করুন: