মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে অমর সরকার স্বর্ণের দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার তার থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা পয়সা নিয়ে যায় এবং তাকে মেরে ফেলে দুর্বৃত্তরা ।তারা এ সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম। গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় । ওই রাতে অমর সরকারের সঙ্গে তার দোকানের কর্মচারী যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামী জয় বিশ্বাস অনিক ছিল। তিনি ঘটনার পর অমর সরকারের বাড়ীতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানায় তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অমরকে হত্যা করে টাকা ও স্বর্ণ লুটে নিয়ে গেছে ঘাতকরা। পরে ওই ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার তদন্তে উঠে আসে, অনিক ও হৃদয় পূর্বপরিচিত। তারা আইপিএল ও বিগ ব্যাশের খেলায় বাজি ধরতেন। বাজিতে হেরে যাওয়ায় অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তারা। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে তারা ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুন করে স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরে দোকান থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে উপজেলার সারপাড় গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে নির্জন স্থানে ধারালো ছুরি দিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনিয়ে নেয় হয়। এ ঘটনায় অমরের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
এই ঘটনায় পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে অমর সরকারের বাবা রবি ভক্ত। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত উল্লেখিত আসামী হৃদয়কে ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং জয় বিশ্বাসকে ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে।
মামলাটির তদন্ত করেন তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১০ মে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সালমা বেগম বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ২১ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামীরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক এই রায় দেন।
।
![]()