রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সমাজসংস্কারক ও প্রগতিশীল মানুষ: জেলা প্রশাসক 

আরেফিন সুমন:
গত বছরের পাঁচ অগাস্টের হামলায় দেশের অন্যান্য স্থাপনার মত চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। থেমে পড়ে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। অবশেষে দীর্ঘ নয় মাস পর জেলা প্রশাসনের  আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) সন্ধ্যায় এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো: সাইদুজ্জামান।
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের দেহে যেমন ধমনী থাকে বাংলা সাহিত্যর ধমনী বলা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয়। আমাদের নাটক, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, এমনকি চিত্রকলা কিসে উনার অবদান নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যর চেতনা। সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিটি বিভাগে উনার ছিল সরবদীপ্ত পদচারণা। তবে আমি উনাকে শুধুমাত্র সাহিত্যের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চাই না। আমরা একটু অন্য দিকে তাকাই। ১৯১৯ সালে বৃটিশরা বাঙ্গালীর অধিকার আদায়কে দমন করার জন্য একটা আইন পাশ করে। সেই আইনটার নাম ছিল “রাওলাট আইন।” বিশৃঙ্খলার অভিযোগে সেদিন বৃটিশরা পাঞ্জাবের অমৃতসরে জালিওয়ালানবাগ নামক স্থানে মানুষদের সুকৌশলে একত্রিত করে তারা ইংরেজ ক্যাপ্টেন ডায়ারে নির্দেশে সরকারি হিসেবে প্রায় চারশ মানুষকে হত্যা করে যেটা বেসরকারি হিসেবের প্রায় ৩-৪ গুন। এ আন্দোলনে অনুপ্রেরণা দেন আমাদের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এর রেশ ধরেই উনি পরবর্তীকালে ইংরেজদের দেওয়া নাইটহুড খেতাব ফিরিয়ে দেন।
রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিসে রবীন্দ্রনাথের অবদান নেই। তিনি গ্রামের মানুষকে নিয়ে সমবায় করেছেন। তিনি শুধুই লেখক বা কবি ছিলেন না, তিনি মানবসেবী ছিলেন। তিনি আত্ম মানবতার সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি নারী জাগরণেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। সমাজে নারীদের বিশেষ অবদান সম্পর্কে তাঁর লেখনিতে ফুটিয়ে তুলেছেন।
প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক আশিকুর রহমান বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুপ্রভাত চাকমা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকার, বাবুরহাট কলেজের অধ্যক্ষ মো: মোশাররফ হোসেন, লেখক ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, নটমঞ্চ শিশু থিয়েটারের সভাপতি পি. এম. বিল্লাল ও বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক ও আরটিভির জেলা প্রতিনিধি শরীফ চৌধুরী।

Loading

শেয়ার করুন: