আরেফিন সুমন :
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় চাঁদপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অবহিতকরণ ও বাস্তবায়ন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৬ মে) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
কর্মশালায় মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, আমরা সবাই আমাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন এটা একটা ভালো দিক। আপনি যদি এ সম্বন্ধে না জানেন তাহলে আমরা সমাজের অন্যায় অনিয়ম বা অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারবো না। আসলে সবার কথা শুনে আমার সেই পুরোনো কথা মনে পড়ে গিয়েছে। একটা ছোট্ট খনার বচন আছে। “সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা” আমাদের আসলে হয়েছে সে অবস্থা। আমি ব্যবসায়ীদের একটা প্রশ্ন করি এই যে এত মানুষের অভিযোগ এসব কি আপনাদের কানে যায় না? দেখেন মানুষ কিন্তু আপনাদের ওপর বিরক্ত। ধরুন আপনি আলু বিক্রয় করেন আপনি নিজে তীর ছুঁড়ছেন মাংস বা মাছ বিক্রেতার ওপর। কিন্তু আপনি নিজে একটু ভেবেছেন কিনা আপনি কি মানুষকে ঠকাচ্ছেন?আপনি কি দামে কোনো ছয় নয় করছেন? আপনি কি ওজনে হের ফের করছেন? অল্প কিছু হয়তো করেন না কিন্তু বেশিরভাগ ব্যবসায়ী তা করেন। এটা সব ক্ষেত্রেই হচ্ছে। আপনি শুধু ব্যবসায়ী না আপনিও ক্রেতা। আপনি নিজেই নিত্যপণ্যের দামে সন্তুষ্ট না। এই যে আমার সামনে ব্যবসায়ী হিসেবে যারা বসে আছেন তাদের এসব অভিযোগ শুনে লজ্জা হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, সমস্যা হল আমরা তথা এই সমাজ আসলে অতি মুনাফাখোরদের খপ্পরে পড়ে গিয়েছি। একটা মসজিদের ইমাম পর্যন্ত এখন শুধু নিজের লাভ আগে দেখে। আমি নিশ্চিত যে ইমাম সাহেব সুযোগ পেলে নিজের ক্ষেতের জমির আইলটাও একটু বাড়িয়ে নিবে। অথচ এই ইমামের পিছনে আপনি আমি আমরা সবাই নামায পড়ি। তার মানে আমাদের সবার মধ্যেই এক ধরনের লোভ, দুর্বৃত্তায়ন, মুনাফা কাজ করে। দেখেন আমার প্রশাসন দিয়ে যদি আমি এই যে অনিয়ম যারা করছেন তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসি তাহলে সব নিষ্ক্রিয় পড়বে। তখন আপনারাই আমার সমালোচনা করবেন। এই মুনাফাখোর অসৎ ব্যবসায়ী যখন একতাবদ্ধ হয়ে যাবেন তখন বাজার মনিটরে যাওয়া আমাদের গুটিকয়েক ম্যাজিস্ট্রেট এরা অসহায় হয়ে পড়বে। এই শহরে এমন কোনো ব্যবসায়ী আমাকে কেউ দেখাতে পারবেন না যে উনি আইন সম্পর্কে জানেন না। সবাই জানে। যে ব্যক্তি দুধ বিক্রি করে সে জানে দুধে পানি মেশানো অপরাধ। জেনেই সে দুধে পানি মেশায়। আবার যে ব্যক্তি তেল বিক্রি করে সে জানে ভেজাল তেল বিক্রি করা অপরাধ। সবাই আমরা জেনেও ভেজাল মিশিয়ে দেই। এজন্য আমি আগেই বলেছি যে আমি ব্যবসায়ীদের ওপর মারাত্মক হতাশ।
তিনি আরও বলেন, আমাদের আইনের প্রতি ভয় আছে কিন্তু শ্রদ্ধাবোধ নেই। তাই আমরা আইন মানি না। তারা বেশি দাম চাইলে আপনারা হট্টগোল করেন। আপনারা যখন ব্যর্থ হবেন তখন আমাদের ডাকেন। দেখি তারা কিভাবে দর অনুযায়ী পণ্য বিক্রি না করে। দেখেন ছাত্র জনতা কিন্তু জুলাই অগাস্টের বিপ্লব ঘটিয়েছিল। সেই জন্য দেশে একটা বিশাল রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। আমি সেই আপনাদের বলছি আপনারা আরেকটা আন্দোলন করুন। আপনারা পারবেন। আপনাদের শক্তি আপনারা দেখিয়ে দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের বলবো আপনারা অতি লাভের বশবর্তী হয়ে আর মানুষকে ব্লাকমেইল করবেন না।।আপনারাও সচেতন হোন। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি আগামী কোরবানীর ঈদের পর আমরা জোরেশোরেই মাঠে নামছি এবং আমরা কিছু কিছু ব্যবসায়ীদের জন্য কঠোর হতে যাচ্ছি। সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে আপনারা সচ্চার হতে চেষ্টা করুন। ব্যবসায়ীদের প্রতি আমার নিবেদন হচ্ছে পণ্যের গুণগত মান ঠিক রেখে আপনারা সেই পন্যের নায্য দাম নিবেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: এরশাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান ভোক্তা অধিকার, সচেতনতা ও আইন নিয়ে একটি প্রেজেনটেশন পেশ করেন।
সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) খায়রুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার নাহিদ ইকবাল, সহকারী কমিশনার মো: মাসুদ রানা, চাঁদপুর বাবুরহাট স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো: মোশারফ হোসেন, জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: রুহুল আমীন বাশীর, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফুল হাসান, গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো: আলী নুর, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মো:নাজমুল আলম পাটওয়ারী, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ সহকারী পরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম, লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশনের সভাপতি এডভোকেট মো: শাহ আলম মিয়াজী, ক্যাব সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিবৃন্দ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীগন।
![]()