স্ত্রীর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে প্রবাসী স্বামী এখন পথের বিখারী

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥

চাঁদপুররের এক প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা স্ত্রীর প্রতারণার ফাদে পড়ে আজ পথের বিখারি হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। তার নাম ফয়সাল হোসেন খান। সে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের শাশিয়ালী গ্রামের মো. শাহ-আলম খানের জৈষ্ঠ পুত্র।

ফয়সাল পাটওয়ারী ২০১৬ সালে চার লক্ষ টাকা দেনমহরে উপজেলার খুরুমখালি গ্রামের রূপসা গ্রামের নাছির ভূঁইয়ার দ্বিতীয় কণ্যার সাথে বিবাহবন্ধন আবদ্ধ হন। পরে ২০১৭ সালে পরিবারের সহায়তায় সৌদি আরব পাড়ি জমায়।

ফয়সাল বলেন, বিদেশ যাওয়ার পর থেকে আমার স্ত্রী আমাদের এক কণ্যাকে নিয়ে আমার মামা শ্বশুরের এলাকায় থাকে। সে আমার নিজ বাড়িতে থাকবে না। সেখানে আমার মা-বাবার সাথে থাকতে চায় না। যেহেতু আমার লাভ মেরেজ, তাই তার কথা গুরুত্ব দিয়ে রূপসা বাজার অগ্রণী ব্যাংকের নিকটে ভাড়া বাসায় থাকি।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রী শাশুড়ি ও আমার মামা শ্বশুর আওয়ামীলীগের নেতা আব্দুল খালেকসহ তারা আমাকে বলে, তাদের আশেপাশে বাড়ি করার জন্য জায়গা বিক্রি হবে। তুমি টাকা পাঠাও, তোমার নামে জায়গা ক্রয় করবো। অবশেষে ঢাকার সাভারে বাড়ি ও জায়গা ক্রয় করার জন্য আমি গত ৭ বছরে প্রায় এক কোটি চল্লিশ লাখ টাকা পাঠাই।
কিন্তু আমার স্ত্রী, শ্বাশুড়ি ও আওয়ামীলীগ নেতা মামা শ্বশুর আমার নামে জমি না কিনে আমার স্ত্রীর নামে বাড়ি ক্রয় করে। আমি দেশে এসে জায়গার ক্গজদেখতে চাইলে তা নিয়ে লুকোচুরি করা শুরু করে। পরে আমি খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন উপায়ে নিশ্চিত হলাম।
স্ত্রীর কাছে কারণ জানতে চাইলে, সে আমার আমার সাথে বাজে বিহেব করে। একপর্যায়ে জমি আমার না বলে হুমকি দেয়। একই ব্যবহার করেন আমার মামা শ্বশুর এবং শাশুড়ী। বিষয়টি নিয়ে আমি আত্মীয় -স্বজনসহ এলাক্র সুধীজনের দ্বারস্ত হই। কারো কাছে কোন সুরাহা না পেয়ে আদালতে বিচার প্রার্থী হই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত খাদিজা আক্তার মিতু বলেন,ওর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ও বিদেশ যাওয়ার পর থেকে আমাদেরকে কোনো টাকা পয়সা দেয়নি। এমন কি কোনো রকম যোগাযোগই রাখেনি। এর কারণ সে নানা নারীতে আসক্ত হয়ে পড়ে। ২০২১ সালে সে গোপনে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে।

মামলার ৪নং আসামী ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক পাটওয়ারী বলেন, ‘বর্তমানে আমার ভাগ্নিদের (খাদিজা আক্তার মিতু) সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের সাথে জমি নিয়ে আমাদের বিরোধ। এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। আমি হলাম মামা, আপনি তার বাবার সাথে কথা বলেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন- তারা খালাত ভাই বোন। প্রেম করে বিয়ে করেছে। ছেলে বেকার দেখে মেয়ের বাবা ছেলেকে কিছু ভূমি দলিল করে দেয়। আবার ছেলে (মেয়ের জামাই) উল্টা পাল্টা চলার কারনে তারা তাদের জায়গা ফেরত নিয়ে নেয়।’

Loading

শেয়ার করুন: