ভোট বেচাকেনা ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নজরদারি থাকবে : ইসি

 

 

আরেফিন সুমন :

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ভোট কেনা-বেচা ঠেকাতে এবার প্রত্যাকটি আসনে নজরদারি থাকবে মোবাইল ব্যাংকিং। মোবাইল এজেন্টগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে অস্বাভাবিক লেনদেন করলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে কোন চাপ থাকবে না। তিনিটি মৌলক পয়েন্ট স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা রেখে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের ছয়টি কমিটি কাজ করছে। তাদেরকে তদন্ত ও বিচারিকর কাজ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ভোট কেন্দ্র কেউ বিশৃঙ্খলা করতে পারবে না। কেন্দ্রে প্রভাব খাটানো ও ভীড় জমানো এগুলো চলবে না। আচরণবিধি যেভাবে দেয়া আছে, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও মানুষের কাছে নিশ্চিত করতে চাই আমাদের হাতেই ভোট নিরাপদ।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুর জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টীম” এর সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দেয়া। লোকজন যেন নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে। ভোটারদের মধ্যে যেন ভয়ভীতি কাজ না করে। ভোট কেন্দ্রে যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে তৈরি হয়। ভয় দেখানো লোক গুলো যেন ভয় পায়। সব শ্রেণী পেশার লোকজন যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে। প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতা করবেন।

তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল বিচারক থাকবে। তিনটি ভাগে এসব টিম কাজ করবে। এরই মধ্যে দুটি টিম মাঠে রয়েছে। আরেকটি নির্বাচনকালীন ৪দিন কাজ করবে। যারা নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছেন তাদের মাঝে তিনটি বিষয় থাকতে হবে। সেগুলো হচ্ছে-স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। একান্ত ছাড়া কোন কিছু গোপন করা যাবে না। সক্ষমতা না থাকলেও সেটাও বলে দিতে হবে। সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের একপেশে নির্দেশনা দেয়া হবে না।

ইসি বলেন, এবারের নির্বাচনের জন্য কর্মকর্তারা বিভিন্ন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন। এসব কাজকে স্বাগত জানাই। হ্যাঁ ভোট নিয়েও প্রচার চলছে। তবে ভোটারদের হ্যাঁ ভোট সম্পর্কে বোঝাতে হবে। এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। পোস্টাল ভোট যাতে কোনভাবে নষ্ট না হয়। যার ভোট তাকে দিতে হবে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দিতে হবে। স্কেনে বাদ পড়লে সে পোস্টাল ভোট গননা করা হবে না।

তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রে কলম ব্যবহার করা যাবে না। কারণ কেউ ইচ্ছে করে আপনার ভোট নষ্ট করে দিতে পারে। সে জন্য কলমের পরিবর্তে পেন্সিল ব্যবহার হবে। এসব বিষয়ে কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেয়া থাকবে।

ইসি আরও বলেন, জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে আমাদের অবস্থান, আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ সবকিছু নির্বাচনের সাথে জড়িত। এই জন্য এই নির্বাচনের ব্যাপকতা অনেক বেশি। আমরা অনুধাবন করে গণতন্ত্রের ঘাটতি থাকলে একটি দেশের কি কি ক্ষতি হতে পারে। আমরা যদি একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরী করতে পারতাম তাহলে অনেক অনাকাঙ্ঘি ঘটনা আমাদের সামনে আসত না। যেটা ঘটেছে। আমরা আর এসব দেখতে চাই না। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ দেখবো।

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: নাজমুল ইসলাম সরকার। জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার মো: রবিউল হাসান, চাঁদপুর ২১ সেনা ক্যাম্পের সিও লে. কর্নেল মোয়াজ্জেম হোসেন, কুমিল্লা বিজিবির সিও লে. কর্নেল মীর আলি এজাজ, র‌্যাব ১১ এর কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম, চাঁদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত নৌ পুলিশ সুপার মো: জহুরুল ইসলাম হাওলাদার, এনএসআইয়ের উপ পরিচালক ইফতেখারুল আলম, চাঁদপুর কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার শওকত আহাম্মদ, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ডার মো: ফজলে রাব্বী, কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ.কে.এম. আব্দুল মান্নান, চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম.এন. জামিউল হিকমা, প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ ও ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ ও সাংবাদিকগণ।

সভায় জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে দেখাগেছে চাঁদপুরের ৫টি সংসদীয় আসনে প্রবাসী ভোটারের সংখ্যার দিক থেকে চাঁদপুর জেলা পঞ্চম এবং নিবন্ধনকৃত পোষ্টাল ভোটার ৪৬হাজার ৪৩৬জন।

Loading

শেয়ার করুন: