খাল পুন:খননে সেচ সংকটের অবসান, স্বস্তিতে মতলবের কৃষক

 

 

সাহাদাত হোসেন :

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কৃষকদের দীর্ঘদিনের সেচ সংকটের অবসান ঘটেছে ।খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রমের ফলে এখন বদলে গেছে চিত্র। প্রাণ ফিরে পেয়েছে ফসলি মাঠ কৃষকদের মুখেও ফুটেছে হাসি। খাল খননের পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধিসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জানা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তোলা। বাবার স্বপ্নকে ধারণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি লবাইরকান্দি থেকে ব্রাহ্মণচক কলসভাঙ্গা পর্যন্ত খাল পুনঃখনন করা হয়।
দীর্ঘদিনের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। খালটি পুনর্খননের ফলে সেই সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে। খাল পুনর্খননে জলবদ্ধতা ও সেচে অনেকটাই উন্নতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

ব্রাহ্মণচক গ্রামের কৃষক মোঃ মেরাজ উদ্দীন জানান, দীর্ঘদিন সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় খালটি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছিল। সম্প্রতি খালটি পুনঃসংস্কার করায় সেচব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং চাষাবাদের খরচও কমবে। আগে পানির সংকটের কারণে যেসব জমিতে পুরোপুরি চাষাবাদ করা সম্ভব হতো না সেসব জমিও এখন আবাদ করা যাবে। এছাড়া খালটি খননে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা জলাধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের এমন উদ্যোগে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা।

চাঁদপুর জেলা যুবদলের সদস্য ও মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক খাইরুল হাসান বেনু জানান, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন বিপ্লবের ধারায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মতলব উত্তরের এই খালটি খননের ফলে কৃষকদের দীর্ঘদিনের সেচসংকট ও জলাবদ্ধতার সমাধান হয়েছে এবং চাষাবাদের খরচ কমবে। খালের দুপাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষাতেও কাজ করছি। কৃষকের মুখের এই স্বস্তি ও উন্নয়ন প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, দীর্ঘদিনের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। খালটি পুনঃখননের ফলে সেই সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন খালের আশপাশের জমিগুলোতে সেচ সুবিধা সহজলভ্য হবে। শুধু তাই নয়, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো। এখন খালটি পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ।

Loading

শেয়ার করুন: