সাহাদাত হোসেনঃ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অদূরেই মেঘনা নদীর তীরে প্রকাশ্যেই চলছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার ও সংরক্ষণ। নৌ পুলিশ ফাঁড়ির জেটিঘাটসংলগ্ন এলাকায় সারি সারি মাছ ধরার নৌকায় রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ নৌকা প্রস্তুত করছেন নদীতে নামানোর জন্য, আবার অনেক জেলে একই জাল দিয়ে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করছেন।
মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির জেটিঘাট এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। ফাঁড়ির খুব কাছেই নোঙর করে রাখা অসংখ্য নৌকায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কয়েকজন জেলে জাল মেরামতে ব্যস্ত, অন্যরা নদীতে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সময়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে কারেন্ট জাল পেতে মাছ ধরতেও দেখা যায় অনেক জেলেকে। সংবাদকর্মীরা ছবি তুলতে শুরু করলে কয়েকজন জেলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।
স্থানীয় তরুণ সংগঠক শামীম বলেন, মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে নৌ পুলিশ, মৎস্য বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বিত ও নিয়মিত অভিযান না হলে নদীর মৎস্যসম্পদ এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
জেলে মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, আগের নৌ পুলিশের ইনচার্জ থাকাকালীন সময়ে এখানে নৌকা রাখতে পারিনি। উনি বদলি হওয়ার পর নতুন ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে আমরা এখানে নৌকা রাখি। আপনারা এখন ছবি তুলছেন, পরে আবার এখানে নৌকা রাখতে দেবে না। আপনারা এখান থেকে চলে যান।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যেখানে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার ও সংরক্ষণ আইনত দণ্ডনীয়, সেখানে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগায় দিনের পর দিন কীভাবে এসব কার্যক্রম প্রকাশ্যে চলতে পারে? দায়িত্বশীল দুই সংস্থার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এ বিষয়ে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন বলেন, আমাদের এখানে নৌকাগুলো রাখা হয়, এটা সত্য। তারা যখন নদীতে জাল নিয়ে মাছ ধরে তখন আমরা বাধা দিতে পারি। কিন্তু এখানে নৌকা রাখার বিষয়টি দেখবে মৎস্য বিভাগ। এগুলো আমাদের দেখার দায়িত্ব নয়।
অপরদিকে মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মির্জা ওমর ফারুক ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, নিষিদ্ধ জিনিস প্রতিহত করা সবার দায়িত্ব। আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি, মাঝেমধ্যে এসে অভিযান পরিচালনা করি। নৌ পুলিশ কোনোভাবেই এ দায় এড়াতে পারে না। আমরা যখন অভিযান পরিচালনা করি, তখন পুলিশেরও প্রয়োজন হয়। তাই সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
![]()