নিজস্ব প্রতিনিধি :
চাঁদপুরে সপরিবারে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের ভাড়া বাসার তালা ভেঙেছে পুলিশ। পরে পুলিশ ভেতরে প্রবেশের পর ঘরের মালামাল অগোছালো দেখতে পায়। পুলিশের ধারণা, রুমের মালামাল আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায় এ তথ্য জানিয়েছেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিন্টু দাস গত ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার থেকে আত্মগোপনে আছেন। পিন্টু চাঁদপুর শহরের হোল্ডিং নাম্বার-৫৮ এর সৌরভিলা ভবনের ৪র্থ তলায় ভাড়া থাকতেন। এর আগে ওই রুম তালাবদ্ধ ছিল। আত্মগোপনে থাকা পরিবারের সদস্যরা হলেন পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম এবং ছোট ছেলে রুপম দাস। তার মূল বাড়ী চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে।কুমিল্লা এবং মুদাফফরগঞ্জে তাদের আত্মীয় রয়েছে।তিনি চাঁদপুর শহরের এস কে শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্দকি ব্যবসা করতো। দীর্ঘদিন তিনি লোকজনের স্বর্ণ বন্ধক রেখে সে স্বর্ণ আর ফেরত দিতে পারছিলেন না। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে লোন নিয়ে ঋণে জর্জরিত হয়েছেন। একাধিক স্থানে দোকান স্থানান্তর করলেও সবশেষ তিনি মদিনা মার্কেটের নীচ তলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতেন। সেখানে যে পরিমাণ স্বর্ণ তিনি বন্ধক রাখতেন তার চার ভাগের একভাগ টাকা মানুষকে দিতেন।
চাঁদপুর শহরের রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খানের দাবী, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার পিন্টুর কাছে ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক দেন। পরে পিন্টু কে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে তার স্বর্ণালংকার আনতে যান। কিন্তু পিন্টু দাস স্বর্ণ না দিয়ে তিনি তাকে পরের দিন আসার জন্য বলেন। এর পর এসে দেখেন পিন্টু দাসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই বন্ধ। পরে তিনি জানতে পারেন পিন্টু স্বপরিবারে উধাও হয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, এঘটনায় আমি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করি।
এছাড়াও শহরের দক্ষিণ গুণরাজদীর জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টুর কাছে বন্ধক রাখেন। ওই স্বর্ণ আর ফেরৎ দেন না।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, ‘ আজ তালা ভেঙ্গে পিন্টুর রুমে পুলিশের একটি টিম প্রবেশ করে। রুমের মালামাল সরিয়ে ফেলার আলামত পাওয়া গেছে। এ সময় বাড়ির মালিকও উপস্থিত ছিলেন। এতে অনেকটা নিশ্চিত তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গিয়েছেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। আশা করি তাকে দ্রুত খোঁজে বের করতে পারবো।
চাঁদপুর জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার বলেন, ‘পিন্টু ঋণের চাপে পালিয়ে গেছে।তিনি আমাদের বাজুসের সাধারণ সদস্য।’
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, ঋণের চাপে পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য নিজ থেকেই আত্মগোপনে বা পালিয়ে গেছেন। আমরা পিন্টু দাসকে খুঁজে বের করলেই প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।’
![]()