মাদকের বিরুদ্ধে বড় টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হবে: জেলা প্রশাসক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ অক্টোবর (রবিবার) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ও বক্তব্য দেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, চাঁদপুর জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহনীয় রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে তা দমন করা কঠিন হবে। যেকোনো আসামি বা মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনকেও জানাতে হবে। বাবুরহাটে আমরা দুইবার অভিযান পরিচালনা করেছি। প্রয়োজনে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, ভেজাল খাদ্য রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সর্বস্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, চাঁদপুরে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।আমরা মাদকের বিরুদ্ধে বড় টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করব। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকসেবীদের পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তায় প্রশাসন কোনো ছাড় দেবে না। যেকোনো বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি এবং দুষ্কৃতকারীদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লা সেলিম এবং চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন,মাদকসহ যে কোন অভিযানে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবেন না। কোনো অপরাধী শনাক্ত হলে তাকে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের স্থানীয় জনতা আটক করলে কোনোভাবেই মারধর করা যাবে না। সব অপরাধীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। কোনোভাবেই তাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

তিনি বলেন, চাঁদপুরে অস্ত্রের তেমন উপস্থিতি নেই। তবে কারও কাছে অস্ত্র থাকলে তা উদ্ধার করা হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা আরও উৎসাহিত হব। দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। ৯৮ শতাংশ পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। হাজীগঞ্জে মদের দোকান রয়েছে। পূজার সময় এসব দোকান বন্ধ রাখার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা দেখবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।

চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লা সেলিম বলেন, সারা দেশেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কমিউনিটি পুলিশিং কাজ করছে। চাঁদপুর জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা পাড়া-মহল্লায় দায়িত্ব পালন করেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্নভাবে সভা করা হয়েছে। সংসদ সদস্যরাও সভা করেছেন, যাতে পূজা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রেলওয়ের বেশির ভাগ জমি অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব জমিতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের কেউ কেউ মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা সমাজে অপরাধ সৃষ্টি করছে। মা ইলিশ রক্ষায় কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

এ সময় সভায় অংশগ্রহণ করেন ও বক্তব্য দেন চাঁদপুর নৌ-পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জহুরুল ইসলাম হাওলাদার, চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায়, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইশমাম, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, চাঁদপুর আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. ফজলে রাব্বি পিভিএম, চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসকের প্রতিনিধি পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূর আজম বিন আখতার (শরীফ), জেলা জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কোহিনুর বেগম, জেল সুপার মো. জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া, চাঁদপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মু. মিজানুর রহমান, কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার আব্দুস সামাদ, হেফাজতে ইসলাম চাঁদপুর শাখার সভাপতি মো. লিয়াকত হোসাইন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. খলিলুর রহমান গাজী, চাঁদপুর জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী অ্যাডভোকেট মুনিরা চৌধুরী, চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আখতার হোসেন মিজি, চাঁদপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইকবালুর রহমান, এনএসআইয়ের উপপরিচালক ইফতেখায়রুল আলম, চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু তাহের, চাঁদপুর জেলা ডিজিএফআইয়ের প্রতিনিধি, চাঁদপুর বিআরটিএ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আবদুল্লাহ আল মামুন, চাঁদপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাছিমা আক্তার, চাঁদপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ড. কাজী হাসেম, চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মন্টু বিশ্বাস, চাঁদপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. ফেরদৌস আলম বাবু, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্যরা।

 

শেয়ার করুন: