ফারুক হোসেন :
চাঁদপুর মতলবে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে রোপা আমন ধান ক্ষেতে হঠাৎ করে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ইঁদুর ধানগাছের গোড়া কেটে ফেলায় ফলন নিয়ে আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, ইঁদুর দমনে উপজেলা কৃষি অফিসের তেমন কোনো পরামর্শ বা সহায়তা তারা পাচ্ছেন না। এদিকে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী আমন ধান চাষ না করায় ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব কিছুটা বেড়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি বছর ৫ হাজার ৪’শ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। কিন্তু আমন ধান গাছে মোচা বা থৌড় আসার সময়ে ইঁদুরের আক্রমনে ফলন কম হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার ঘনিয়ারপাড় গ্রামের সফিক ঢালি, রবিউল্লা মোল্লাসহ অনেকেই জানান, ধান গাছ থেকে ধানের শীষ বের হওয়ার সময়ে ইঁদুর আমন ধানগাছ কেটে ফেলে দিচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিকুলতা সত্বেও এ বছর ভাল ফলনের জন্য অনেক কষ্ট করে জমিতে ধানের পরিচরর্যা করেছেন, কিন্তু ইঁদুরের আক্রমণে তাদের সপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে। তাদের অভিযোগ ইঁদুরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা তেমন কোন তদারকি বা পরামর্শ দিচ্ছেনা। কৃষকরা ইঁদুরের উপদ্রব থেকে ধানের জমি রক্ষার জন্য সরকারী ভাবে ইঁদুর দমনে জরুরী কার্যকরি ব্যাবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, ইঁদুরের আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে ধান রোপণের আগেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ধান রোপণের সময় কৃষকদের সারিবদ্ধভাবে চারা লাগানো ও প্রতি ৮/১০ সারির পর-পর একটি সারি ফাঁকা রাখার পরামর্শ দেয়া হলেও কৃষকরা তা মানেন না। কৃষকদের ধারনা সারি ফাঁকা রাখলে ধান উৎপাদন কম হবে। কিন্তু সারিবদ্ধভাবে ধান লাগালে ধান ক্ষেত অন্ধকার হয়ে পড়ে এতে করে ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যায়।
এছাড়াও জমির চারপাশের সীমানা আইল পরিষ্কার রাখলে ইঁদুরের উপদ্রব অনেকটাই কমে আসে।