চাঁদপুরে জেলেদের  বরাদ্দকৃত চাল চুরির ঘটনায় প্রতিবেদন চেয়েছে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

আদালত প্রতিবেদক :

চাঁদপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল চুরি করে খোলা বাজারে বিক্রির ঘটনায় লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) গোলাম মোস্তফা শামীমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।

এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং থানায় কোনো মামলা বা জিডি হয়েছে কি না—তা আগামী ২৯/১০/২০২৬ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে দাখিল করার জন্য চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

সংবাদ প্রকাশ ও আদালতের স্বপ্রণোদিত পদক্ষেপ
গত ১৩/১০/২০২৬ খ্রিঃ তারিখের দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ, দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ, দৈনিক প্রভাতী কাগজ, দৈনিক মেঘনা বার্তা এবং দৈনিক চাঁদপুর সময় পত্রিকার প্রথম পাতায় জেলেদের চাল চুরির বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়।

প্রকাশিত সংবাদসমূহ আদালতের দৃষ্টিগোচর হলে চাঁদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট  মুজাহিদুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ১৯০(১)(সি) ধারার ক্ষমতাবলে স্বপ্রণোদিত হয়ে বিবিধ মামলা নং- ১৫/২০২৬ রুজু করেন।

চাল চুরির চাঞ্চল্যকর বিবরণ তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, সিএসডি গোডাউন থেকে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত মোট ১১.২৫ মেট্রিক টন চালের মধ্য থেকে ৫ মেট্রিক টন চাল চুরি করা হয়।  চুরিকৃত এই চাল কুমিল্লার জেলার লাকসাম উপজেলার এক ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করা হয় এবং চোরাই চালের ক্রেতা হিসেবে জনৈক ব্যবসায়ী ইউনুসের নাম প্রকাশ পায়।

সরকারি সিএসডি গোডাউন থেকে চাল চুরি এবং চুরাইকৃত মালামাল ক্রয়-বিক্রয় একটি আমলযোগ্য অপরাধ (Cognizable Offence) হওয়ায় চোরাই চাল, পিকআপ গাড়ি ও এর চালককে আটক করা হয়।

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে, সিএসডি গোডাউনের মতো সুরক্ষিত স্থান থেকে সরকারি চাল চুরির ঘটনায় শুধুমাত্র একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়।

অপরাধ দমন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল ব্যক্তিকে দ্রুত যথাযথ আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা আবশ্যক।
এমতাবস্থায়, উক্ত ঘটনার বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় কোনো জিডি বা নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে কি না এবং চোরাই চাল ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা আগামী ২৯/১০/২০২৬ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে নিশ্চিত করেন চীফ জুডিসিয়াল আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন।

শেয়ার করুন: