ফেসবুকে ছবি শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে হাজীগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ২৯

হাসান মাহমুদ ॥

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাফেজ মো. ইলিয়াছ হোসেন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিকৃত ছবি শেয়ার করা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ২৯ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের পালিশারা গ্রামে জামায়াতের আমীর মো. ইলিয়াছ হোসেনকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে উভয় পক্ষের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বিতর্কিত ওই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর।

আহত বিএনপির নেতাকর্মীরা হলেন, নেছার আহমেদ চৌধুরী, সাইফুল মিজি, আনোয়ার হোসেন সর্দার, কামাল হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, কুদ্দুস সর্দার, মহসিন হোসেন তুষার, রাসেল ভুঁইয়া, লিটন হোসেন, আলামিন হোসেন, রাসেল হোসেন, মহিন হোসেন, জনি হোসেন, আব্দুর রহিম, নূর হোসেন, মেহেদী হাসান, স্বপন ও ফয়সাল।

আহত জামায়াতের নেতাকর্মীরা হলেন, হাফেজ মো. আব্দুল মোতালেব, হাফেজ মো. ইলিয়াছ হোসেন, ফরিদুল ইসলাম, হাফেজ আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, ফয়সাল হোসেন, রাশেদ হোসেন, সজিব হোসেন, শরীফ পাটওয়ারী, রাজু ও শামীম হোসেন।
উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য নেছার আহমেদ চৌধুরী জানান, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে নিয়ে বিকৃত ও অবমাননাকর একটি ছবি শেয়ার করেন, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ইলিয়াছ হোসেন। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার সকালে তার সাথে কথা বলতে গেলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে।
তিনি বলেন, হামলায় আমি’সহ আমাদের ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কামাল হোসেন, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মহসিন তুষারসহ আমাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এরমধ্যে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি আছে।

ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমার ব্যক্তিগত ফেইসবুক থেকে তারেক রহমানের একটি ছবি অসাবধানবশত শেয়ার হয়ে যায়। আমাদের কয়েকজন নেতা বিষয়টি আমাকে জানালে আমি ওই পোস্টটি তাৎখনিক ডিলেট করে দিই এবং ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ করে আরেকটি পোস্ট দেই।

তিনি বলেন, আমার মোবাইলটি ঘরে থাকলে বাচ্চারা (সন্তান) ব্যবহার করে। হয়তো তারাও শেয়ার করতে পারে। ঘটনা যা হয়েছে, আমি ফেইসবুকে পোস্ট করে দুঃখ প্রকাশ করেছি। তার পরেও আজ শুক্রবার সকালে বসার কথা ছিলো। আমার উদ্দেশ্য ছিলো আমি ক্ষমা চাইবো। কিন্তু বসার পূর্বেই তারা আমাদের উপর হামলা করে।

ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমীর হাফেজ আব্দুল মোতালেব বলেন, ক্ষমা চাইলে-তো আর কিছু থাকেনা। বিএনপির নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করলে এলাকার লোকজন ও গ্রামবাসী তাদেরকে প্রতিহত করে। আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীরা চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের হামলা ও মারধরের বিষয়টি উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়েছে। এখন দলীয় যে নির্দেশনা আসবে, আমরা ওই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবো।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ রহিম পাটওয়ারী বলেন, জামায়াতের অতর্কিত হামলায় আমাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয়ভাবে অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর বিএম কলিমুল্লাহ মিলন বলেন, ফেসবুকের বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হলে আমরা ওই পোস্টটি তাৎখনিক ডিলাইট করিয়েছি এবং এই ঘটনায় হাফেজ ইলিয়াছ হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে ওইদিন রাতেই ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, মারামারি খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক ও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোন পক্ষের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Loading

শেয়ার করুন: