ফারুক হোসেন
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কৃতি মেয়ে রোমানা পাপড়ি এবার পাচ্ছেন ‘অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫’। শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে অসাধারণ অর্জনের জন্য তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
মতলব উত্তরের এক সাধারণ পরিবারের সন্তান রোমানা পাপড়ি। বাবা আমির হোসেন মাস্টার এবং মা শিরীনা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট। ছেংগারচর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকা বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি দুটি পরীক্ষাতেই বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।
পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখানে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এর স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন ডীনস পদকসহ বংশদ্বীপ মহাস্থবির স্বর্ণপদক (বি.এ) এবং বৌদ্ধতত্ত্ববিদ প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া স্বর্ণপদক (এম.এ)। ২০২২ সালে একই বিভাগ থেকে “বৌদ্ধদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা: পরিপ্রেক্ষিত ঢাকা শহর” শিরোনামে গবেষণার মাধ্যমে এম.ফিল ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
শুধু শিক্ষা নয়, কর্মক্ষেত্রেও উজ্জ্বল তার পথচলা। ২০১৯ সালে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে মেধা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন অনেকগুলো বৃত্তি যার মধ্যে রয়েছে ড. গণেশ চন্দ্র বড়ুয়া বৃত্তি, ইবিএল-ডুয়া বৃত্তি, বিএনসিসি মেধাবৃত্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের গবেষণা বৃত্তি।
শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি রোমানা জড়িত রয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রীড়া কমিটি, গবেষণা সংসদ, লিও ক্লাবসহ নানা সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রয়েছে তার পদচারণা ভারত, নেপাল এবং চীনে সেমিনার, প্রশিক্ষণ এবং কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন তিনি।
গবেষণায় তার অবদান অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তার লেখা ১০টি পিয়ার রিভিউ গবেষণা প্রবন্ধ এবং ২৫টিরও বেশি ম্যাগাজিন, সাময়িকী ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রবন্ধ রয়েছে।
পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে রোমানা পাপড়ি বলেন, এই সম্মান আমাকে আরও দায়িত্বশীল করেছে। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, আমার অভিভাবক, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এবং আমার জন্মভূমি মতলবের মানুষের অবদানেই আজকের আমি। আমি বিশ্বাস করি শিক্ষা মানুষকে শুধু যোগ্য নয়, দায়িত্ববানও করে তোলে।
তিনি আরও বলেন, নারী মানেই সক্ষম, নারী মানেই শক্তি। সুযোগ এবং সহায়ক পরিবেশ পেলে মেয়েরা শুধু নিজেদের নয়, সমাজকেও পরিবর্তন করতে পারে। ভবিষ্যতে শিক্ষা, গবেষণা এবং নারীর ক্ষমতায়ন এই তিন ক্ষেত্রেই আরও কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।
রোমানা পাপড়ির এই অর্জনে পরিবার, সহকর্মী ও এলাকার মানুষের মাঝে আনন্দ ও গর্বের ছাপ স্পষ্ট। অনেকেরই মন্তব্য তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
![]()