চাঁদপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “কমপ্লিট শাটডাউন” চলছে

 

 

 

মাসুদ রানা :

চাঁদপুরের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ থেকে চলছে “কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচি। শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের নেতারা এই কর্মসূচি ঘোষণা দেন।

চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সভাপতির সভাপতি গিয়াস কোভিদ বলেন, ২২ পরও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে দেয়া আশ্বাস এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

চাঁদপুরের সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম বলেন, চাঁদপুরে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলন থাকায় পরীক্ষা নিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। আজ বুধবার জেলার ১১৫৬ স্কুলের মধ্যে চার শত স্কুলে প্রধান শিক্ষকরা বিশেষ ব্যবস্থায় আংশিক পরীক্ষা হচ্ছে। তবে এসব পরীক্ষার কাজে সহকারী শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেননি। ওইসব স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার দপ্তরি এবং কিছু অভিভাবকদের সহযোগিতা নিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা না হলে নতুন বছরে তারা কীভাবে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হবে? ফলে অবশ্যই ৩য় এবং সমাপনী পরীক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন। যে করেই হোক আমরা সবগুলো পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করবো। তিনি বলেন ২১, ২২ এবং ২৩ ডিসেম্বর প্রাথমিক মেধা যাচাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় ৫ম শ্রেণীর ৪০ শতাংশ মেধাবী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। সে পরীক্ষাটি আমরা শিক্ষক ছাড়াও নিতে পারবো। তাতে তেমন কোনো অসুবিধা হবে না। তিনি আরো বলেন, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের নিয়মিত পরীক্ষা শেষ করতে হবে। কারণ ১১ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর সকল বিদ্যালয়ে শীতকালীন ছুটিতে থাকবে।

চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি গিয়াস কবির বলেন, সহকারী শিক্ষকদের দাবী গ্রহণযোগ্য। আমার বিশ্বাস সরকার শিক্ষকদের দাবী পূরণ করে তাদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনবেন। তিনি আরো বলেন, সহকারী শিক্ষকরা সরকারের কাছে ৩টি দাবী করেছেন। প্রথমটি হলো, ১০ গ্রেডে উন্নীত করা। অন্যটি হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া এবং চাকরির ১০ এবং ১৬তম বছরে ১ম এবং ২য় উচ্চতর গ্রেড প্রদান করা।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯০ ভাগ শিক্ষক উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত। সুতরাং, সরকারি অন্যান্য চাকরির সাথে শিক্ষকদের গ্রেড উন্নয়নের মাধ্যমে তাদেরকে সম্মানিত করা হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হবে।

চাঁদপুর হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের মধ্যেও আমাদের বিদ্যালয়ের বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ৩য় মূল্যায়নের পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করেছি। এ কাজে আমার বিদ্যালয়ের স্টাফ এবং অভিভাবকরা সহায়তা করছেন। শহরের আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আমিও বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিচ্ছি। তবে সহকারী শিক্ষকরা তাদের দাবির প্রেক্ষিতে আন্দোলনে রয়েছেন। একই অবস্থা আক্কাস আলী রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

 

Loading

শেয়ার করুন: