আরেফিন সুমন:
চাঁদপুরে তারুণ্যের অগ্রযাত্রায় আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। (৭ অক্টোবর ) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, তারুণ্যের অগ্রযাত্রায় আমরা আসলে সুশাসনের বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমরা ১৯৭১ সালে সমাজের বৈষম্যের বিরুদ্ধে, সুশাসনের জন্য লড়েছি পরাধীন থেকে। ২০২৪ সালেও এসে আমরা আমাদের অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে না বলেই আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েও আমরা লড়েছি। উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অধিকার আদায়। স্বাধীনভাবে আর কাজ করতে পারছিলাম না। আমাদের যারা জনপ্রতিনিধি ছিলেন তাদের জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেতো না। আমাদের বলার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম যে সংবাদ মাধ্যম সেসব আসলে ভয়ে অনেক সময়ে কোনো নিউজ করতে পারতেন না। সেই সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি যে সংবাদ মাধ্যম তারা ভয়ে তটস্থ থাকতো। সাংবাদিকদের আমি বলি আপনারা সবসময় নেগেটিভ নিউজের পাশাপাশি আপনারা সত্য প্রকাশ করবেন। যে ভালো কাজ করে আপনারা তাদের বাহবা দিন। যে খারাপ করবে তার মুখোশ উন্মোচিত করুন। আসলে তখনই সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, সুশাসন নিশ্চিতে লক্ষ্যে আপনারা খেয়াল রাখবেন ভুল যাতে কম হয়। আপনাদের ভুলের কারণে সাধারণ জণগন বিপথে তাড়িত হবে। আপনাদের ভুলের কারণে যারা সিদ্ধান্ত নেন তারা আত্নবিশ্বাসহীনতায় ভুগতে পারে। আর আমি প্রায়ই গণমাধ্যমকে দেখি তোষামোদ বা তোয়াজ করতে। এতে মূল খবর চাপা পড়ে যায়। এখনো আমি দেখি অনেককেই যে সাংবাদিক নাম শুনলে অনেক সমীহ করে, ভয় পায়। আপনাদেরকে মানুষ বিশ্বাস করতে চায়। জানে আপনারা লিখলে সঠিকটাই লিখবেন। আপনারা যখন সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করবেন তখন যেন রাজনীতি আপনার মধ্যে না ঢোকে। তাহলে আস্তে আস্তে আপনি সত্য প্রকাশে ভীত হয়ে পড়বেন। আপনারা যখন কোনো পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন তখন আমরা চিন্তা করি আমি বোধহয় সঠিক কাজ করছি। আপনারা বিতর্কে না জড়িয়ে যদি আসল সংবাদ উপস্থাপন করেন তখন আমাদের সমাজে সুশাসন কায়েম হবে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আপনাদের সবাই সহায়তা করতে চায়। এসব দিক কাজে লাগিয়ে আপনারা কাজ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভুল কাজ করার পিছনে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সঠিক তথ্য, দায়িত্ব পালন করলে আমরা ভুল কম করতাম না। এখনো দেখি সাংবাদিকরা ভীত। ভীত হলে চলবে না। আমরা সবাই বলি সাংবাদিক বা সংবাদ মাধ্যম একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সত্য প্রকাশে অবিচল থাকুন। সংবাদ প্রকাশে সাহসী হোন। এতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে তরুণ সমাজ। আসুন আগামীর বাংলাদেশে আমরা যারা তরুণ আছি সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। আপনারা একটা কথা মনে রাখবেন আমাদের কথা অতদূর যায় না। কিন্তু আপনাদের কথা দেশে বিদেশে সব জায়গায় ছড়িয়ে পরে।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক তথ্য অফিস (পিআইডি) উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো: সাঈদ হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ নুর আলম দীন, স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক ও পৌর প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া, সুশাসনের জন্য নাগরিকের(সুজন) সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তী।
![]()