নিজস্ব প্রতিনিধি :
চাঁদপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবেষ্টনীতে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রাক-প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, “প্রতিমার অবয়ব গঠন ও মণ্ডপের পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উস্কানিমূলক বার্তা না ছড়ায়।” মণ্ডপের সাউন্ড সিস্টেম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দুর্গাপূজার সাথে বাংলা সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিদেশি অপসংস্কৃতি পরিহার করে মণ্ডপগুলোতে ভক্তিমূলক ও মার্জিত বাংলা গান বাজানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।” একই সাথে মণ্ডপে প্রবেশ ও প্রস্থানের সুনির্দিষ্ট পথ রাখা এবং যানজট নিরসনে সড়ক ব্যবস্থাপনার ওপর তিনি জোর দেন।
চাঁদপুরের জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা জোরদার করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের আশ্বাস দিয়ে তিনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে যে কোনো সমস্যায় সরাসরি পুলিশ প্রশাসনে যোগাযোগের আহ্বান জানান।
সভায় জানানো হয়, এ বছর চাঁদপুর জেলায় গতবারের চেয়ে ৮টি বেড়ে মোট ২৩২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিলো ২২৪টি। এর মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভা এলাকায় ৩৫টি এবং পৌরসভার বাইরে সদর উপজেলায় ৬টি মণ্ডপে পূজা আয়োজিত হবে।
সভায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করা, উচ্চস্বরে ইকো সেট বাজানো পরিহার, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রাখার বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও চাঁদপুর পৌর প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল ছিদ্দিক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে জেলার বিভিন্ন উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য দেন পরেশ মালাকার, গোপাল চন্দ্র সাহা, লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, রুহিদাস বণিক, সমর লাল দত্ত, নিখিল চন্দ্র মজুমদার, অমৃত মজুমদার টুটন, ফনী ভূষণ, বিকাশ, কিশোর কুমার ঘোষ, চন্দন সাহা, শ্যামল চন্দ্র দাস, প্রবীর চক্রবর্তী, নেপাল সাহা, অ্যাডভোকেট সুমন সরকার জয়, বিবেক লাল মজুমদার, অজয় মজুমদার, কার্তিক সরকার ও মানিক লাল ঘোষ।
সভাশেষে সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসব নিরাপদ ও সর্বজনীনভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।