চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে লেকের পানি থেকে আল-আমিন (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তুরাবুর রহমান ছাবিদ ওরফে তুরাব (১৭) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে কালীবাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুরে হত্যা মামলার আসামি তোরাবকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. বাহার মিয়া।
নিহত আল-আমিন চাঁদপুুর সদর রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী প্রধানিয়ার ছেলে। তাদের পরিবার বর্তমানে চাঁদপুর শহরের মমিনপাড়া এলাকায় বসবাস করে। সে চাঁদপুর শহরের গনি মডেল হাই স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। আসামী তুরাবুর রহমান ছাবিদ ওরফে তুরাব চাঁদপুর শহরের আদর্শ মুসলিমপাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে । সে নিহত আল-আমিনে বন্ধু।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরের শনিবার (১২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে লেকের পানি থেকে আল-আমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন বিকেলে আল-আমিন বাসা থেকে বের হয়ে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী হাই স্কুল মাঠ সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য অঙ্গীকারের সম্মুখে লেকের পাড় এলাকায় কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। পরে রাত ১০টার দিকে হঠাৎ লেকের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
হাসপাতালে আনার পর তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে আল-আমিনের ৭ জন বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আটক করে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় নিহত আল আমিনের বাবা বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানা একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কয়েকজন আটক হয়। কিন্তু তোরাবুর রহমান ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলো।
আল আমিনের পরিবার অভিযোগ করেছে , তার বন্ধু তোরাবুর হোসেন ঘটনার দিন আল আমিনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। সন্ধ্যায় কয়েকজন মিলে লেকের পাশে আড্ডা দিতে বসে। তখনই শুরু হয় মারধর, এরপর ফেলা হয় পানিতে। হত্যার পর নাটক সাজাতে কিশোর গ্যাং সদস্যরা নিজেরাই হাসপাতালে নিয়ে যায় আল আমিনকে। আগের দিনও একই গ্যাং হাজী মহসীন রোডে সংঘর্ষে জড়িয়ে ছিলো। নিহতের শরীরে জখমের চিহ্ন, চোখের পাশে রক্তাক্ত ক্ষত, হাতে আঘাতের দাগ ছিলো। পরিবারের দাবি—এই নৃশংস হত্যার বিচার দ্রুত হওয়া উচিত।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. বাহার মিয়া বলেন, চাঁদপুর শহরের লেকের পাড়ে আল আমিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার মূল সন্দেহভাজন আসামী তুরাবুর রহমান ছাবিদ ওরফে তুরাব গ্রেফতার করা হয়েছে।দুপুরে হত্যা মামলার আসামি তোরাবকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।আদালতে আমরা বিরুদ্ধে ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি।
![]()