আরেফিন সুমন ॥
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে চাঁদপুরের মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে পানি আবার কমতে শুরু করেছে। এতে করে চাঁদপুর সদরের লক্ষীপুর, হানারচর, চান্দ্রা, হাইমচর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের সড়ক, পুকুর ও বসত বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী জানায় , গতকাল জোয়ারের সময় মেঘনার পানি বিপৎসীমা ৪ সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।
এর আগে শুক্রবার ও শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মেঘনার পানির উচ্চতা বেড়েছিল। ওই সময় চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার নদী উপকূলীয় এলাকায় পানি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও শহর রক্ষা বাঁধের পুরান বাজার এলাকায় নদীর পানি সড়ক সমান অবস্থায় রয়েছিল।
সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা মনির শেখ জানান, ফেরিঘাট এলাকায় পানি রাস্তা সমান। আশপাশের নীচু সড়কে পানি উঠেছে।
পার্শ্ববর্তী চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ গাজী জানান, বেড়ি বাধেঁর বাহিরে সব বাড়ি, রাস্তা ও পুকুরে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে। তার নিজের পুকুরে মাছ চাষ করা হয়েছে। ওই পুকুরের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আজকে বাতাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই পানি বেড়েছে। এতে মাছ চাষীদের বেশি ক্ষতি হবে এবং পাকা সড়কগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, সেচ প্রকল্পের বাইরের মাছ চাষীদের সাথে যোগাযোগ করেছি। তাদেরকে মাছ সংরক্ষণের জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।
হাইমচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফুল হক জানান, চলতি মাসের মিটিংয়ে মৎস্য চাষীদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে ২৪ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পাবে। এরপরেও উপজেলা মৎস্য বিভাগ থেকে জেলেদের সতর্ক করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহরুল হক বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বিষয়টি আমরা অবগত। আমাদের কর্মকর্তারাও সতর্ক রয়েছেন। তবে মেঘনার পানির উচ্চতা বাড়লেও বেশি সময় স্থায়ী হয় না। আজকে বিকেলে জোয়ারের সময় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটারের নিচে নেমে গেছে ।
![]()