মো. মহিউদ্দীন
টাকার অভাবে জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যার চিকিৎসা করাতে না পারা রোগীদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে চাঁদপুরের শাহরাস্তির একটি উদ্যোগ।
উপজেলার উয়ারুক বাজারে মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে এসব রোগীর বিনা মূল্যে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, হাসপাতালে থাকা ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী স্পিচ থেরাপিও দেওয়া হবে বিনা মূল্যে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু নাছের শাকিল। প্রথম দিনের কার্যক্রমে ২০ জন রোগীর অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের (এফসিপিএস ও এমএস) নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আরিফ উল হাসানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি এককালীন কোনো চিকিৎসা ক্যাম্প নয়; বরং দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আসা ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। প্রতি তিন মাস অন্তর অথবা ১০ জন রোগী নিবন্ধিত হলে অস্ত্রোপচারের আয়োজন করা হবে। ঠোঁটকাটা রোগীর ক্ষেত্রে তিন মাস এবং তালুকাটা রোগীদের ক্ষেত্রে নয় মাস বয়স থেকে অস্ত্রোপচার করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় রোগীদের অস্ত্রোপচার, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, হাসপাতালে অবস্থান ও পরবর্তী স্পিচ থেরাপির জন্য কোনো খরচ দিতে হবে না।
ডা. আরিফ উল হাসান বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত অনেক রোগীর দেখা পাওয়া যায়। আর্থিক অসচ্ছলতা ও চিকিৎসাসুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁদের অনেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করাতে পারেন না। এসব রোগীর চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের যেকোনো স্থান থেকে আসা রোগীরা এ কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।
এর আগে বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন ডা. আরিফ উল হাসান। ২০২৬ সালের এপ্রিলে এক নারীর পেট থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের টিউমার এবং জুনে আরেক নারীর পেট থেকে প্রায় ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করেন তিনি। একই বছরের ৭ আগস্ট শাহরাস্তির ওই হাসপাতালেই ৩৬ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়। ওই নারীর পেটে এটি ছিল পঞ্চম অস্ত্রোপচার।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে এক রোগীর পায়ুপথে আটকে থাকা একটি ডাব অস্ত্রোপচার ছাড়াই বের করার ঘটনাতেও আলোচনায় আসেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, শাহরাস্তিতে শুরু হওয়া এ নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা পাওয়া সহজ হবে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের জন্য এ উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।